এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে বাংলাদেশের দ্রুততম মানব ইমরানুর রহমান আশা জাগিয়েও ফাইনালে ওঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চীনের তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিত ৬০ মিটার স্প্রিন্টের প্রথম সেমিফাইনালে তৃতীয় হওয়ায় তিনি ফাইনালের লড়াই থেকে ছিটকে যান।
সকালে নিজের হিটে দ্বিতীয় হয়ে সেমিফাইনালে ওঠেন ইমরানুর। তার টাইমিং ছিল ৬.৭৩ সেকেন্ড। কিন্তু ফাইনালের পথে প্রতিযোগিতায় তার সময় হয়েছে ৬.৭৫ সেকেন্ড। এশিয়ান ইনডোরের নিয়ম অনুযায়ী তিনটি সেমিফাইনাল থেকে মোট আটজন অ্যাথলেট ফাইনালে উঠবেন। প্রথম দুইজন প্রতিটি সেমিফাইনাল থেকে সরাসরি ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেন। বাকি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুততম দুইজন বাকি দুটি আসন পূরণ করেন।
প্রথম সেমিফাইনালে ইমরানুরের সঙ্গে অংশ নেন মোট আটজন অ্যাথলেট। তাদের মধ্যে ৬.৬৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয় উত্তর কোরিয়ার কুম রিয়ং, এবং ৬.৭৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে চীনের হে জিনশিয়ান দ্বিতীয় হন। এই দুজনই সরাসরি ফাইনালে ওঠেন। ইমরানুরের সঙ্গে জিনশিয়ানের সময়ের পার্থক্য মাত্র ০.০১ সেকেন্ড ছিল।
ইমরানুরের খেলা শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন সংবাদমাধ্যমকে একটি বার্তা পাঠিয়েছে। এতে তিনি ফাইনালে যেতে না পারার হতাশা প্রকাশ করে ভক্তদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমি পরের রাউন্ডে যেতে পারিনি, এজন্য ক্ষমাপ্রার্থী। প্রায় দুই বছর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় না খেলার পরও আমি ইতিবাচক দিকটাই নিতে চাই। এবার অন্তত চোট পাইনি এবং সামনের প্রতিযোগিতার জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে পারবো। সবার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ।’
ইমরানুরের আগে ২০২৩ সালে কাজাখস্তানে এশিয়ান ইনডোর অ্যাথলেটিকসে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে সোনা জিতেছিলেন। সেই সময় ৬.৫৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে সেরা হয়েছেন, যা ৬০ মিটারে তার ক্যারিয়ারসেরা টাইমিং। ২০২৪ সালে ইরানের তেহরানে এশিয়ান ইনডোরে ৬০ মিটার স্প্রিন্টে তিনি চতুর্থ হন।
এশিয়ান ইনডোরে বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত তিনজন অ্যাথলেট পদক জিতেছেন। ইমরানুর ছাড়াও রয়েছে রুপা ও জহির রায়হান। ২০২৪ সালে ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে জহির রায়হান ৪৮.১০ সেকেন্ড সময় নিয়ে রূপক জিতেছেন। একই বছরের হাই জাম্পে মাহফুজুর রহমান ২.১৫ মিটার লাফিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছেন।
সিএ/এসএ


