মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের জন্য ভবন ভাড়া দেওয়ায় মালিককে গুলি করার ঘটনার পর অভিযুক্ত তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়নের ছেলের বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাত থেকে আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর পর্যন্ত গুয়াগাছিয়া এলাকায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়।
আজ সকালে গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জাম পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গজারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল বিকেলে গজারিয়া উপজেলার জামালপুর গ্রামে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের জন্য ভবন ভাড়া দেওয়ায় কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) নামের এক ভবনমালিককে হাত ও পায়ে গুলি করার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় শরীফ প্রধান নামের তাঁর এক আত্মীয়ও আহত হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়ন ও তাঁর সহযোগীরাই এ হামলার সঙ্গে জড়িত।
সেনাক্যাম্প সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী দেশব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে সদর দপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীন গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প শুক্রবার রাত একটার পর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গুয়াগাছিয়া এলাকায় তল্লাশি চালায়।
অভিযানকালে তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়নের ছেলে নীরবের বসতবাড়ি থেকে একটি শুটার গান, দুটি গুলি, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযান চলাকালে নীরবকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত নৌ ডাকাত নয়ন ও পিয়াস গ্রুপের সঙ্গে নীরব যুক্ত এবং তিনি এলাকায় একটি কিশোর গোষ্ঠী পরিচালনা করতেন। তাঁদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের মেঘনা নদী ও আশপাশের নদীপথে ডাকাতি, অবৈধ বালু উত্তোলন ও নৌযানে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়ন-পিয়াস ও নীরব গ্রুপ। আধিপত্য ধরে রাখতে গত দেড় বছরে মেঘনা নদীতে একাধিকবার গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, যাতে তিনজন নিহত হন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২২ আগস্ট জামালপুর এলাকায় অস্থায়ী একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। ২৫ আগস্ট ওই ক্যাম্পে হামলার অভিযোগ ওঠে নয়ন-পিয়াস গ্রুপের বিরুদ্ধে। পরে জেলা পুলিশ, গজারিয়া থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর অভিযানে গ্রুপটির সদস্যরা এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তবে সম্প্রতি তাঁরা আবার এলাকায় ফিরে ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁদের ভয়ে এলাকার অন্তত ৬২টি পরিবার গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
সিএ/এমই


