ভালো ছবি আঁকার জন্য মনোযোগী হওয়া, বারবার চেষ্টা করা এবং নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আঁকার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী। তিনি বলেন, ভালো ছবি আঁকতে হলে আগে চারপাশের জগৎ গভীরভাবে দেখতে হবে এবং কী আঁকা হবে, তা শিল্পীকেই ঠিক করতে হবে। নিজের মতো করে আঁকলে তবেই ছবি প্রাণ পায়।
শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক স্মরণে আয়োজিত শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আবুল বারক আলভী। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবুল বারক আলভী বলেন, ‘ভালো ছবি আঁকার জন্য বারবার চেষ্টা করতে হবে। চেষ্টা থাকলে ছবি ভালো হবেই। বাইরে গিয়ে চারপাশের সবকিছু মন দিয়ে দেখতে হবে। কী আঁকবে, সেটা নিজেই ঠিক করবে। নিজের মতো করে আঁকবে, তাহলেই ছবি ভালো হবে।’ একই সঙ্গে তিনি শিশুদের সৃজনশীল কাজে অভিভাবকদের আরও যত্নশীল ও সহায়ক হওয়ার আহ্বান জানান।
এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩৫০ জন শিশু ও কিশোর অংশ নেয়। শিশু ও কিশোর—এই দুই বিভাগে মোট ১৮টি পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিটি বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কারের পাশাপাশি একটি বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। এ ছাড়া শহীদ জহুরুল হকের পরিবারের পক্ষ থেকে আরও পাঁচটি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি সারওয়ার আলী বলেন, ২৭ বছর ধরে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক স্মরণে এই চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হচ্ছে। এটি শুধু ছবি আঁকার একটি আয়োজন নয়, বরং একজন মানুষকে সম্মান জানানোর একটি মাধ্যম।
শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে সারওয়ার আলী বলেন, ‘তোমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। স্বাধীনতার জন্য যাঁরা নিজের অমূল্য জীবন উৎসর্গ করে গেছেন, তাঁদের তোমরা সব সময় শ্রদ্ধা ও সম্মান করবে। চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্দেশ্য এটাই।’ তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশু-কিশোরদের অভিভাবকদেরও ধন্যবাদ জানান।
শিল্পী মনিরুজ্জামান বলেন, শিশুদের রংতুলিতে আঁকা ছবির মধ্যেও গভীর দেশপ্রেম থাকে। ছোটদের আঁকা ছবি থেকেও বড়রা অনেক কিছু শিখতে পারে। ইট-পাথরের শহরে ব্যস্ত জীবনের কারণে শিশুদের সৃজনশীলতা বিকাশে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া জরুরি।
অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে মনিরুজ্জামান বলেন, শিশুদের দিগন্তজোড়া মাঠ, ধানখেত, শর্ষেখেত, আকাশ, পাহাড় ও নদীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। মাসে অন্তত একবার শিশুদের গ্রাম দেখাতে হবে। তাতেই তাদের মনে প্রশ্ন তৈরি হবে এবং দেশপ্রেম গড়ে উঠবে। এতে তারা সুন্দরভাবে ও প্রকৃত মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠবে।
শিল্পী অশোক কর্মকার বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যাঁরা প্রথম দিকে জীবন উৎসর্গ করেছেন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক তাঁদের অন্যতম। ছবি আঁকার মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসা ও সুন্দরের কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া প্রতিটি শিশু-কিশোরের অভিভাবককে অভিনন্দন জানান শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের বড় ভাইয়ের মেয়ে নাজনীন হক। তিনি বলেন, একটি শিশুকে গড়ে তুলতে শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা যথেষ্ট নয়। ছবি আঁকা, গান গাওয়া, নাচ বা অন্যান্য সৃজনশীল চর্চার প্রতিও অভিভাবকদের মনোযোগ দিতে হবে। কারণ, একাডেমিক শিক্ষা সবাই নিতে পারে; কিন্তু ছবি আঁকতে সবাই পারে না।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন কর্মসূচি ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের পরিবারের সদস্য অধ্যাপক মাইনুল হক।
সিএ/এমই


