শুক্রবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জীববিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ কমল দাস লিখেছেন, প্রকৃতিতে মা-বাবার ভালোবাসার উদাহরণ আমরা প্রায়ই দেখি। কিন্তু কিছু প্রাণী কখনো নিজের সন্তানকেও খেয়ে ফেলে। সুইডেনের ইউনিভার্সিটি অব এগ্রিকালচারাল সায়েন্সেসের বিহেভিওরাল ইকোলজিস্ট আনিস বোস বলেন, প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এই আচরণের দেখা মেলে। বালুচড়া গবি মাছ, স্ট্যাগ বিটল, এমনকি পোষা প্রাণীর মধ্যেও এই স্বভাব লক্ষ্য করা যায়।
সব প্রাণী এমন আচরণ করে না। হাতি বা তিমির মতো দীর্ঘমেয়াদি প্রজননকারী প্রাণীরা সাধারণত সন্তান খায় না। তবে যারা দ্রুত প্রজনন করে এবং একসঙ্গে অনেক বাচ্চা জন্ম দেয়, তাদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
মূল কারণগুলো হলো:
খাবারের অভাব: বাবা-মা যখন খাবারের সংকট অনুভব করে, তখন কিছু সন্তানকে খেয়ে বাকি বাচ্চাদের বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়।
শক্তির অপচয় রোধ: কুকুর বা বিড়ালের মতো স্তন্যপায়ী প্রাণী মৃত বা অসুস্থ বাচ্চা খেয়ে শক্তি পুনরুদ্ধার করে।
বাবার সন্দেহ: কিছু মাছের ক্ষেত্রে বাবা যদি বুঝতে পারে যে বাচ্চাগুলো তার নয়, তবে সে সেগুলো খেয়ে ফেলে। মায়েরা ডিম পাহারা দিয়ে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।
মাঝেমধ্যে ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন ইঁদুর বা খরগোশ পুরো ব্যাচ বাচ্চাকেই খেয়ে ফেলে। এটি অনেকটা “গেম রিস্টার্ট” বাটনের মতো, যেখানে মা দুর্বল প্রচেষ্টাকে বাতিল করে শক্তি সঞ্চয় করে নতুনভাবে জন্ম দিতে প্রস্তুত হয়।
সিএ/এমআর


