কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি সত্যিই মানুষের মতো সৃজনশীল হতে পারে—এই প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান জগতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, নির্দিষ্ট কিছু সৃজনশীলতার মানদণ্ডে বর্তমান জেনারেটিভ এআই মডেলগুলো গড়পড়তা মানুষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে।
কানাডার ইউনিভার্সিটি ডি মন্ট্রিয়লের সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক করিম জেরবি এবং এআই গবেষণার পথিকৃৎ অধ্যাপক ইয়োশুয়া বেঞ্জিওর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় মানুষের সৃজনশীলতা ও লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলের দক্ষতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়। এটিকে এ পর্যন্ত এআই ও মানব সৃজনশীলতার মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত গবেষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গবেষণায় চ্যাটজিপিটি, জিপিটি-৪, ক্লড ও জেমিনির মতো একাধিক জনপ্রিয় এআই মডেলের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করা হয়। এগুলোর ফলাফল তুলনা করা হয়েছে এক লাখ মানুষের ওপর চালানো সৃজনশীলতা পরীক্ষার তথ্যের সঙ্গে। এতে দেখা যায়, ভাষাগত বৈচিত্র্য ও ধারণা উপস্থাপনের মতো কিছু ক্ষেত্রে জিপিটি-৪ গড় মানুষের তুলনায় বেশি স্কোর অর্জন করেছে।
তবে গবেষকেরা এটাও স্পষ্ট করেছেন, সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ স্তরে থাকা মানুষদের সঙ্গে এআইয়ের এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। শীর্ষ ১০ শতাংশ সৃজনশীল মানুষের গড় স্কোর এআই মডেলগুলোর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। অর্থাৎ, মানুষের সেরা কল্পনাশক্তি ও মৌলিক চিন্তার জায়গায় যন্ত্র এখনো পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি।
অধ্যাপক করিম জেরবি বলেন, আমাদের গবেষণা দেখাচ্ছে যে কিছু নির্দিষ্ট কাজে এআই গড় মানুষের চেয়ে ভালো করছে, যা অনেকের কাছে বিস্ময়কর হতে পারে। তবে মানব সৃজনশীলতার চূড়ান্ত শিখর এখনো মানুষেরই দখলে।
সিএ/এমআর


