প্রযুক্তিনির্ভর দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় মানুষ সবকিছুতেই তাৎক্ষণিক ফল পেতে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য দ্রুত পৌঁছায়, মুহূর্তেই বার্তা আদান-প্রদান হয়। এই তাড়াহুড়োর প্রভাব অনেক সময় ইবাদত ও দোয়ার ক্ষেত্রেও পড়ে। দোয়া করার পর কাঙ্ক্ষিত ফল দ্রুত না পেলে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, দোয়া কি আদৌ কবুল হচ্ছে না।
ইসলামের দৃষ্টিতে আল্লাহ তায়ালার ব্যবস্থাপনা একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত হয়। পার্থিব জীবনের মতো সবকিছু সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না। দোয়ার ফলাফল দেরিতে পাওয়া মানেই দোয়া কবুল হয়নি—এমন ধারণা সঠিক নয়। বরং দোয়ার সঙ্গে ধৈর্য ও আন্তরিকতা থাকা অপরিহার্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ গুনাহের কাজ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য দোয়া না করে এবং অধৈর্য না হয়, ততক্ষণ তার দোয়া কবুল হতে থাকে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেছিলেন, অধৈর্য হওয়া বলতে কী বোঝায়? তিনি বলেন, মানুষ যখন বলে, আমি বারবার দোয়া করেছি, কিন্তু মনে হয় কবুল হচ্ছে না এবং এরপর হতাশ হয়ে দোয়া ছেড়ে দেয়। (সহিহ মুসলিম)
কোরআন ও হাদিসে বারবার ধৈর্য ও আন্তরিকতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ধৈর্য মানুষকে আত্মিকভাবে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর ওপর ভরসা বাড়ায়। নবীজি (সা.) নিজেও গভীর মনোযোগ ও অটল বিশ্বাস নিয়ে একই দোয়া বারবার করতেন।
দোয়া করার সময় দায়িত্ব পালনের মতো করে নয়, বরং পূর্ণ বিশ্বাস ও একাগ্রতার সঙ্গে আল্লাহর কাছে চাওয়া জরুরি। দোয়ার পাশাপাশি ধৈর্য ধারণ করলে এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর আস্থা রাখলে দোয়ার প্রকৃত ফল সময়ের সঙ্গে প্রকাশ পায়।
সিএ/এমআর


