হোয়াটসঅ্যাপের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দায়ের করা একটি মামলায় দাবি করা হয়েছে, মেটা চাইলে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের তথাকথিত ‘প্রাইভেট’ বার্তায় প্রবেশাধিকার পেতে পারে। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রযুক্তি অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মামলার সূত্র ধরে জানা যায়, অভিযোগকারীদের দাবি—মেটা প্রায় সব হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত যোগাযোগে প্রবেশের সক্ষমতা রাখে। তবে মেটা এ অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই দাবি “একেবারেই মিথ্যা ও হাস্যকর”।
মেটার বক্তব্য অনুযায়ী, মামলাটি মূলত ইসরায়েলভিত্তিক স্পাইওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপের করা মামলায় এনএসও গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে পরাজিত হয়েছে।
মেটার বিরুদ্ধে এই মামলাটি করেছে আন্তর্জাতিক আইন ফার্ম কুইন ইমানুয়েল উর্কহার্ট অ্যান্ড সালিভান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, ভারত, মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু হুইসেলব্লোয়ারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তারা এই অভিযোগ তুলেছে।
এদিকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অভিযোগটিকে সন্দেহের চোখে দেখছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক স্টিভেন মারডক বলেন, অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি গোপন রাখা প্রায় অসম্ভব হতো। কারণ এত বড় একটি ঘটনা দীর্ঘদিন কোম্পানির ভেতরে লুকিয়ে রাখা কঠিন।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা পড়ার সক্ষমতা নিয়ে তদন্ত হলেও অভিযোগটি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ দাবি করে, তাদের এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ব্যবস্থায় শুধু প্রেরক ও প্রাপকই বার্তা পড়তে পারেন। মাঝখানে কোনো সার্ভার বা তৃতীয় পক্ষের তা ডিকোড করার সুযোগ নেই।
সিএ/এমআর


