ইসলামে পবিত্রতা অর্জনের অন্যতম মাধ্যম হলো অজু। নামাজসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের আগে অজু করা ফরজ হিসেবে নির্ধারিত। কোরআনে স্পষ্টভাবে অজুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং কোন কোন অঙ্গ ধোয়া ফরজ তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী অজুর ফরজ কাজ চারটি—পুরো চেহারা ধোয়া, কনুইসহ উভয় হাত ধোয়া, মাথা মাসাহ করা এবং টাখনুসহ উভয় পা ধোয়া। এই চারটি কাজ সম্পন্ন হলে অজু আদায় হয়।
নামাজ আদায়ের জন্য অজু অপরিহার্য। নফল হোক বা ফরজ—যে কোনো নামাজ অজু ছাড়া শুদ্ধ হয় না। নামাজ চলাকালে অজু ভেঙে গেলে নামাজও ভেঙে যায়।
জানাজার নামাজের জন্যও অজু ফরজ। তবে যদি অজু করতে গেলে জানাজার পুরো নামাজ ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সে ক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামাজ আদায়ের অনুমতি রয়েছে।
তিলাওয়াতের সিজদা ও শোকরের সিজদার ক্ষেত্রেও অজু ফরজ বলে অধিকাংশ আলেম মত দিয়েছেন। কারণ এসব সিজদা নফল নামাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং নামাজের শর্তগুলো এখানেও প্রযোজ্য।
এ ছাড়া কোরআন শরিফ স্পর্শ করার জন্য অজু থাকা ফরজ। অজু ছাড়া কোরআন স্পর্শ করা বৈধ নয়। যে গ্রন্থে অধিকাংশ অংশ কোরআনের আয়াত রয়েছে, সেটিও অজু ছাড়া স্পর্শ করা যাবে না।
ইসলামি শরিয়তে তাওয়াফের জন্য অজু ওয়াজিব হিসেবে গণ্য। হাদিসে তাওয়াফকে নামাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। তাই ইবাদতের শুদ্ধতা নিশ্চিত করতে অজু বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।
সিএ/এমআর


