বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী দেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় এবং জাতিকে পেছনের দিকে ঠেলতে চায়। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ঢোলারহাট এলাকায় এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এছাড়া মির্জা ফখরুল ওই ইউনিয়নের ঝলঝলিপুকুর, শিমুলতলী, ব্যারিস্টার বাজার ও আখানগর ইউনিয়নের শুকানীপাড়া, দলুয়াপাড়া, কালিতলা বাজারসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি নির্বাচনী সভায় অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জামায়াতের আমির সাহেব নাকি মহিলাদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, বাজে কথা বলছেন। আমি ডিটেইল জানি না—সত্য নাকি মিথ্যা। তবে তিনি যদি এ কথা বলে থাকেন, তবে অন্যায় করেছেন। মহিলারা কখনোই এটা মেনে নিতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর স্বভাবই এমন। তারা নারীদের কাজ করতে দিতে চায় না। তারা বলে মেয়েরা ঘরে থাকবে, কাজ করবে কী? যেসব নারী গার্মেন্টসে কাজ করছেন, তাঁদের বলা হয়েছে ৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করতে পারবেন না। কাজ না করলে তাঁরা খাবে কী? জামায়াতে ইসলামী দেশটাকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায় এবং জাতিকে পেছনে ঠেলতে চায়।
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাধা দিয়েছিল। দলটি মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতা করেনি, উল্টো পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল। তাদের কাছে কি আমরা দেশকে নিরাপদ মনে করতে পারি?’
দেশে নতুন সুযোগের বার্তা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সুশাসন, ন্যায়বিচার, ইনসাফ, হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের দেশ হিসেবে আমরা এই দেশকে গড়ে তুলতে চাই। এ কারণে এবারের নির্বাচনকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিচ্ছি।’
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একাত্তরে আমরা যুদ্ধ করেছি। সেই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে, এক কোটির বেশি মানুষ ভারতে চলে গিয়েছিল। সেই সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করেছিল একটি রাজনৈতিক দল, সেটি হলো জামায়াতে ইসলামী। এটা বলতে কি আপনারা ভয় পাচ্ছেন, ভয় পাবেন না।’
ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে ভোট চাইতে এসেছি, খালি হাতে আসিনি। আমরা ঠাকুরগাঁওয়ে মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গড়ব। বিমানবন্দর চালু করব। ভাইবোনদের চাকরির জন্য কলকারখানা গড়ে তুলব। একটি ইপিজেড গড়ে তুলব। সনাতন ও মুসলিম ভাইবোনদের মধ্যে সম্প্রীতি তৈরি করে ঠাকুরগাঁওকে একটি মডেল অঞ্চলে রূপান্তর করব।’
গণসংযোগে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি সুলতানুল ফেরদৌস, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনসারুল হক ও রুহিয়া থানা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এমই


