জেরুজালেম একটি অনন্য নগরী, যা তিন আসমানি ধর্মের পবিত্র কেন্দ্র এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিন দ্বন্দ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মুসলমানদের জন্য এখানে অবস্থিত আল-আকসা মসজিদ, যা ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান। প্রথম যুগে এখানে মুসলমানদের কিবলা ছিল, পরবর্তীতে কিবলা পরিবর্তিত হয়ে মক্কায় নির্ধারিত হয়।
এছাড়া গম্বুজে-সাখরায় নবী করিম (সা.) মিরাজে গমন করেছিলেন। ইহুদি ও মুসলমান উভয়ই এটিকে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর কোরবানির প্রস্তাবের স্থান হিসেবে মান্য করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণে দেখা গেছে, খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ সাল থেকেই মানুষের বসতি ছিল। খ্রিস্টপূর্ব ১০০০ সালে রাজা দাউদ জেরুজালেম দখল করে এটি সুরক্ষিত নগরীতে রূপ দেন। তার পুত্র সলোমন মন্দির নির্মাণ করেন।
খ্রিস্টাব্দ ৬৩৮ সালে খলিফা উমর (রা.) সেনাপতি আবু উবাইদাহ-এর নেতৃত্বে শহরটি দখল করেন। পরবর্তী সময়ে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিকের আমলে গম্বুজে-সাখরা এবং আল-আকসা নির্মিত হয়। একাদশ শতকে ক্রুসেডাররা শহর দখল করে ধর্মীয় নিপীড়ণ চালায়, কিন্তু ১১৮৭ সালে সালাহউদ্দীন আইউবি শহর পুনর্দখল করেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।
উসমানীয় আমলে সুলতান সুলায়মান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট শহরের প্রাচীর ও টাইলস নির্মাণ করান, যা আজও দেখা যায়। ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ বাহিনী জেরুজালেম দখল করে, একই বছরের বেলফোর ঘোষণা ইহুদিদের জন্য সমর্থন দেয়। এরপর জেরুজালেমের ভাগ্যে শুরু হয় নতুন দ্বন্দ্ব। বর্তমানে ইসরাইল সমগ্র জেরুজালেমকে রাজধানী ঘোষণা করলেও ফিলিস্তিনিরা পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রাজধানী দাবি করে।
সিএ/এমআর


