আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়তে পারে বলে মনে করছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা ও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিলে ভোটার উপস্থিতি ৫৫ শতাংশের বেশি হতে পারে বলে তাঁর ধারণা।
আজ রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের জন্য আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অধিবেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। এমআরডিআইয়ের সহযোগিতায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ ডিকাব সদস্যদের জন্য নির্বাচনবিষয়ক দুই দিনের এই কর্মশালার আয়োজন করে।
ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কিছু নেতার গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, বুঝে না বুঝে ‘না’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন হয়েছে। অনেকেই বিষয়টি না বুঝেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকার চায় যে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হোক—এটি স্পষ্ট। সরকার এক বছরের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন কমিশনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রস্তাব তৈরি করেছে এবং তা বাস্তবায়ন করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট নিয়ে যে সমস্যাটি ছিল, সেখানে জামায়াত, এনসিপি ও আরও দু-একটি দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছে। বিএনপিকে নিয়ে কিছুটা এম্বুগিউটি ছিল। দু-একজন স্থানীয় নেতা ‘না’-এর পক্ষে কথা বলছিলেন। কেন্দ্রীয় পর্যায়ে যারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ছিলেন, তাঁদের কণ্ঠ খুব জোরালো ছিল না বলে মনে হয়েছে।
‘এটা আমি ব্যক্তি হিসেবে বলছি, মন্ত্রী হিসেবে নয় বা উপদেষ্টা হিসেবে নয়। কিন্তু আমার মনে হয় সেই কনফিউশনটা দূর হয়ে গেছে। কারণ, গতকাল বিএনপির সভাপতি (চেয়ারম্যান) “হ্যাঁ”-এর পক্ষে জোরালোভাবে, শক্তভাবে বলেছেন,’ বলেন তৌহিদ হোসেন।
ভোটাররা শর্ত পড়ে বিশ্লেষণ করে ভোট দিতে যাবেন না বলেও মনে করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ওই সময়ও নেই, সুযোগও নেই। আসলে মানুষ ভোট দিতে যাবে পার্টি লাইনে। আমার পার্টি “না” সমর্থন করলে আমি দেব “না”। আমার পার্টি সমর্থন করলে আমি ভোট দেব। প্রধান তিন চারটি দল সবাই কিন্তু “হ্যাঁ”-এর পক্ষে। কাজেই আমার মনে হয় না এটা নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হবে।’
নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যাবেন না উল্লেখ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা সব সময়ই হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। এবার কিছু বেশি মানুষ ভোট দিতে যাবে কি না, তা বলা কঠিন। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। তবে এবার ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে বলে আমার মনে হয়।’
নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কোনো নির্বাচনই পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ হয় না। আমি আজ সকালে ১৯৯১ সালের নির্বাচন দেখছিলাম। তখন ভেবেছিলাম নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। আসলে তখনও কিছু অস্থিরতা ছিল। এবারও কিছু অস্থিরতা থাকবে। একেকজন একেকভাবে দেখবে। সেটাকে বিবেচনায় না নিয়েই আমরা আমাদের মতো করে নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছি। নির্বাচন হবে।’
নিজের ও তাঁর স্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি এবং আমার স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তর করিনি। যথারীতি তা বহাল আছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা মন্ত্রী মেয়াদে থাকাকালে পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন—এটা খুব অস্বাভাবিক। কেউ কেউ করেছেন ভিসা সুবিধার কারণে।’
নির্বাচনে বিদেশিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রতিটি দেশেই কিছু ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত ট্র্যাডিশন গড়ে ওঠে। এখানে কূটনৈতিক কমিউনিটির কথা বলাকে সমাজের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করে। এটি এক ধরনের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
বিদেশিদের উদ্বেগ নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সম্ভব যতটুকু, ততটুকু সমাধানের চেষ্টা করছি এবং তা করে যাব।’
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, নিরাপদ নির্বাচনের জন্য সাংবাদিকদের নিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ডিজিটাল পরিসরে নারী প্রার্থী ও নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জোর দেন তিনি।
সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমান, ডিকাব সভাপতি এ কে এম মঈনুদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা ইমরুল কায়েস।
সিএ/এমই


