সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরপরই কিছু প্রস্তুতি শুরু করা প্রয়োজন, যা ভবিষ্যতে মা ও সন্তানের সুস্থতার জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগেভাগে সচেতন হলে গর্ভধারণ যেমন সহজ হয়, তেমনি জটিলতার ঝুঁকিও কমে।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজের চিকিৎসক ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা এক ভিডিও বার্তায় সন্তান নেওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি, তা তুলে ধরেন। তার মতে, ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ এই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্তান গর্ভে আসার অন্তত এক মাস আগে থেকেই প্রতিদিন ৪০০ মাইক্রোগ্রাম ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা প্রয়োজন, যা শিশুর মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের সঠিক গঠনে সহায়তা করে।
তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে হেপাটাইটিস বি টিকা না নেওয়া থাকলে তা গর্ভধারণের আগেই সম্পন্ন করা উচিত। পাশাপাশি শরীরে আয়রনের ঘাটতি আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা দরকার, কারণ রক্তস্বল্পতা গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দেশের অনেক নারী এই ভিটামিনের অভাবে ভোগেন, যা হাড় ও দাঁতের পাশাপাশি শিশুর সামগ্রিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত রোদে যাওয়া ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্কতার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে শিশুর কম ওজন নিয়ে জন্ম বা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই গর্ভধারণের আগেই ধীরে ধীরে ক্যাফেইনের পরিমাণ কমিয়ে আনা ভালো।
এ ছাড়া ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান পরিহার এবং ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেন ডা. তাসনিম জারা। তার মতে, সন্তান নেওয়ার আগে শরীর ও মন— উভয় দিক থেকেই প্রস্তুত থাকাই সুস্থ মাতৃত্বের প্রথম ধাপ।
সিএ/এমআর


