আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারি বা রিবাত একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত, যার গুরুত্ব ও ফজিলত বহু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এটি কেবল শত্রুর মোকাবেলায় সামরিক দায়িত্ব নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য সুযোগ।
ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জাহান্নামের আগুন দুটি চোখকে কখনো স্পর্শ করবে না। একটি হলো সেই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে অশ্রু ঝরায়, আর অন্যটি হলো সেই চোখ, যা আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারি করে নিদ্রাহীন রাত কাটায়।
সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এ ইবাদতকে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখতেন। মুসলমানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে তারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করতেও কুণ্ঠাবোধ করতেন না। এমনই এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন সাহাবি আব্বাদ ইবনু বিশর (রা.)।
জাবির বিন আব্দুল্লাহ আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত এক ঘটনায় জানা যায়, রাসুলুল্লাহ (সা.) এক অভিযানের সময় শত্রুর আশঙ্কায় পাহারাদার নিয়োগের আহ্বান জানান। তখন একজন আনসারি ও একজন মুহাজির সাহাবি পাহারার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। রাতের পালা ভাগ করে নেওয়ার পর আনসারি সাহাবি নামাজে দাঁড়িয়ে তিলাওয়াত শুরু করেন।
এ সময় এক শত্রু তাকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি তীর নিক্ষেপ করে। প্রতিটি তীর তার শরীরে বিদ্ধ হলেও তিনি নামাজ ভাঙেননি। নামাজ শেষ করে সাথিকে ডাকার পর শত্রু পালিয়ে যায়।
পরে সাথি জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি একটি সুরা তিলাওয়াত করছিলেন এবং তা শেষ না করে নামাজ ভাঙতে তার মন সায় দিচ্ছিল না। আল্লাহর রাস্তায় পাহারাদারির দায়িত্ব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে তিনি আরও সহ্য করতেন বলেও উল্লেখ করেন।
এই ঘটনা সাহাবিদের ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
সিএ/এমআর


