আধুনিক ডেটিং সংস্কৃতিতে নতুন একটি প্রবণতার নাম ‘রস্টার ডেটিং’। এতে এক ব্যক্তি একই সময়ে একাধিক মানুষের সঙ্গে ডেটিং করেন, তবে কারও সঙ্গেই দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রতিশ্রুতি থাকে না। কখনো নদীর ধারে আড্ডা, কখনো ক্যান্ডেল লাইট ডিনার, আবার কারও সঙ্গে সিনেমা দেখা—সবই চলছে পাশাপাশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জেন–জি প্রজন্ম সম্পর্কের ক্ষেত্রে আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি স্বাধীনচেতা। সামাজিক চাপ বা অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তারা নিজেদের পছন্দকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ফলে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ‘ট্রায়াল অ্যান্ড এরর’ পদ্ধতিকে বেছে নিচ্ছেন অনেকে।
সমাজ পরিবর্তনের সঙ্গেও এই প্রবণতার যোগসূত্র রয়েছে। একসময় আর্থিকভাবে পুরুষরা বেশি স্বাবলম্বী থাকায় নারীদের পছন্দ–অপছন্দ অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেত না। বর্তমানে নারীরাও ক্যারিয়ার সচেতন ও আর্থিকভাবে স্বাধীন। তাই নিজের মতো করে সঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার তারা জোরালোভাবে দাবি করছেন।
এ ছাড়া মানুষের মধ্যে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের প্রবণতা কমে যাওয়াও রস্টার ডেটিংয়ের পেছনে একটি কারণ হিসেবে দেখছেন সমাজবিশ্লেষকেরা। সহজেই সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে শুরুতেই একাধিক বিকল্প খোলা রাখছেন।
তবে এই ডেটিং কৌশলের ইতিবাচক দিকও রয়েছে বলে মনে করেন কেউ কেউ। এতে ভুল মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়ার ঝুঁকি কমে এবং বিয়ের আগেই নিজের উপযোগী মানুষ খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সিএ/এমআর


