শীত মৌসুমে তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের আর্দ্রতা হ্রাস পায়। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে চুল ও মাথার ত্বকে। ফলে অনেকের চুল রুক্ষ, শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে ওঠে। তবে শুধু আবহাওয়াই নয়, শীতকালে চুলের যত্নে কিছু সাধারণ ভুলও এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চুলের যত্নের অভ্যাসে পরিবর্তন না আনাই শীতকালের চুলের সমস্যার অন্যতম কারণ। অনেকেই গরমকালের মতো একই রুটিন অনুসরণ করেন, যা শীতে চুলের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
শীতকালে অতিরিক্ত ঘন ঘন চুল ধোয়া একটি বড় ভুল। এই সময়ে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত শুকিয়ে যায়। তার ওপর বারবার শ্যাম্পু করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। তাই শীতে সপ্তাহে দুইবারের বেশি চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই বলে মত দেন বিশেষজ্ঞরা।
আরেকটি সাধারণ ভুল হলো কন্ডিশনার ব্যবহার এড়িয়ে যাওয়া। অনেকেই চুল ভারী হয়ে যাবে ভেবে কন্ডিশনার কম ব্যবহার করেন। অথচ শীতে চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে কন্ডিশনার অত্যন্ত জরুরি। এটি না ব্যবহার করলে চুল ফ্রিজি হয়ে যায় এবং রুক্ষতা বাড়ে।
শীতকালে মাথার ত্বকে খুশকির সমস্যা দেখা দিলেও অনেকেই তা অবহেলা করেন। মূলত ডিহাইড্রেশনের কারণে স্ক্যাল্প শুষ্ক হয়ে খুশকি তৈরি হয়। স্ক্যাল্প সুস্থ না থাকলে চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।
ভেজা চুল নিয়ে বাইরে বের হওয়াও শীতে চুলের ক্ষতির অন্যতম কারণ। ঠান্ডা বাতাসে ভেজা চুলের কিউটিকল শক্ত হয়ে যায়, ফলে চুল সহজেই ভেঙে পড়ে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে চুল পুরোপুরি শুকানো জরুরি।
এ ছাড়া শীতকালে অতিরিক্ত হিট স্টাইলিং চুলকে আরও দুর্বল করে তোলে। স্ট্রেটনার, কার্লার কিংবা ব্লো ড্রায়ারের অতিরিক্ত তাপ শুষ্ক বাতাসের সঙ্গে মিলে চুলকে প্রাণহীন করে দেয়। অনেকেই এই সময়ে তেল ব্যবহার কমিয়ে দেন, যা ভুল সিদ্ধান্ত। শীতেই চুলের পুষ্টির সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। নিয়মিত তেল বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার না করলে চুল আরও শুষ্ক ও নিষ্প্রাণ হয়ে পড়তে পারে।
সিএ/এমআর


