ইসলামে বিয়ে শুধু সামাজিক বন্ধন নয়; এটি শালীনতা, পবিত্রতা ও পরিপূর্ণ জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিয়েকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বর ও কনের জন্য কিছু প্রস্তুতি থাকা অপরিহার্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিয়ের সামর্থ্য থাকা ব্যক্তিকে দেরি না করে বিয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে বিয়ের আগে আত্মিক ও বাস্তব জীবনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা জরুরি বলে ইসলাম শিক্ষা দেয়।
প্রথমত, নিজেকে মুত্তাকি ও পরহেজগার হিসেবে গড়ে তোলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাপ থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহভীতির চর্চা দাম্পত্য জীবনের ভিত্তিকে মজবুত করে। কারণ প্রত্যেকে যেমন উত্তম জীবনসঙ্গী প্রত্যাশা করে, তেমনি নিজেকেও সেই মানে পৌঁছাতে হয়।
দ্বিতীয়ত, উত্তম জীবনসঙ্গীর জন্য আল্লাহর কাছে নিয়মিত দোয়া করা জরুরি। কুরআনে উল্লেখিত দোয়া নিয়মিত পড়লে দাম্পত্য জীবনে বরকত আসে বলে আলেমরা মনে করেন।
তৃতীয়ত, বিয়ের আগে দ্বীনদার জীবনসঙ্গী নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে। তাকওয়া, সংযম ও নৈতিকতার গুণাবলি দাম্পত্য জীবনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
এ ছাড়া বিয়ের আগে স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি। অজ্ঞতার কারণে অনেক সময় দাম্পত্য জীবনে ভুল বোঝাবুঝি ও অশান্তি তৈরি হয়।
হালাল উপার্জনের প্রস্তুতি, পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মানসিকতা, তালাক সংক্রান্ত শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে ধারণা এবং পারিবারিক ব্যবস্থাপনা—সবকিছু মিলিয়েই বিয়ের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়।
সিএ/এমআর


