মানবজীবনে সত্য ও মিথ্যা—এই দুই বিপরীত নৈতিক পথের পরিণতি অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাদিসে সত্যবাদিতা ও মিথ্যাচারের চূড়ান্ত পরিণতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ সত্য বলতে বলতে একসময় আল্লাহর কাছে পরম সত্যবাদী হিসেবে পরিচিত হয়, আর মিথ্যা বলতে বলতে শেষ পর্যন্ত মহামিথ্যাচারী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে যায়।
হাদিসে সত্যকে কেবল একটি কাজ হিসেবে নয়, বরং ধারাবাহিক চরিত্রচর্চা হিসেবে দেখানো হয়েছে। মানুষ যখন নিয়মিত সত্য কথা বলে এবং সত্যের ওপর অটল থাকে, তখন তা তার স্বভাব ও ব্যক্তিত্বের অংশে পরিণত হয়। এই অবিচল সত্যবাদিতা মানুষকে নেক আমলের পথে এগিয়ে নেয় এবং ধীরে ধীরে জান্নাতের যোগ্য করে তোলে। ধারাবাহিক সত্যনিষ্ঠার মাধ্যমে একজন মানুষ আল্লাহর কাছে ‘সিদ্দীক’—অর্থাৎ পরম সত্যবাদী হিসেবে মর্যাদা লাভ করে, যা ঈমানের এক উচ্চতম স্তর হিসেবে বিবেচিত।
অন্যদিকে, মিথ্যাকে এখানে সামান্য ভুল বা ক্ষণিক বিচ্যুতি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি। বরং একে ধ্বংসের ধারাবাহিক পথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি মিথ্যা আরেকটি পাপের জন্ম দেয়, পাপ মানুষকে আরও পাপাচারের দিকে ঠেলে দেয়। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা শেষ পর্যন্ত জাহান্নামের পথে নিয়ে যায়।
হাদিসে সবচেয়ে ভয়াবহ যে দিকটি উঠে এসেছে, তা হলো—মিথ্যা বলতে বলতে একসময় মানুষের পরিচয়ই আল্লাহর দরবারে ‘মহামিথ্যাচারী’ হিসেবে স্থির হয়ে যায়। এটি শুধু পার্থিব জীবনের জন্য নয়, বরং ঈমান ও আখিরাতের জন্যও মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।
এই হাদিস মানুষকে আত্মসমালোচনার সুযোগ দেয় এবং দৈনন্দিন জীবনে সত্যবাদিতাকে অভ্যাসে পরিণত করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে এটি সতর্ক করে দেয় যে, মিথ্যার সঙ্গে আপস করা মানেই ধীরে ধীরে নিজের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে ফেলা।
সিএ/এমআর


