মোবাইল ফোনের পেছনের ঢাকনাটি হঠাৎ উঁচু মনে হলে ব্যাটারির অংশ ফুলে উঠতে পারে। এটি অস্বাভাবিক দেখালেও হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। ব্যাটারি ফুলে গেলে শুধু ফোন নষ্ট হয় না, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্যাটারি ফুলে গেলে দ্রুত মেরামত করা জরুরি। না হলে আগুন বা বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
কেন ফুলে যায় ব্যাটারি?
বর্তমান স্মার্টফোনে লিথিয়াম-আয়ন পলিমার ব্যাটারি ব্যবহৃত হয়। এর ভেতরে ধাতব ও প্লাস্টিকের পাতলা স্তরের মাঝে রাসায়নিক পদার্থ ও ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। এগুলো একটি সিল করা প্যাকেটের (অ্যালুমিনিয়াম ব্যাগ) মধ্যে রাখা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহার বা ভুল চার্জিংয়ের কারণে ব্যাটারির রাসায়নিক পদার্থ গ্যাসে পরিণত হয় এবং প্যাকেট ফেঁপে ওঠে।
ফুলে যাওয়ার প্রধান কারণ:
- অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া: দীর্ঘ সময় চার্জে রাখলে ব্যাটারিতে চাপ তৈরি হয়।
- অতিরিক্ত গরম হওয়া: ফোনের প্রসেসর গরম হলে ব্যাটারিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- নিম্নমানের চার্জার বা কেবল ব্যবহার: অনুমোদনহীন চার্জার ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়।
- ব্যাটারির আয়ু শেষ হওয়া: পুরোনো ব্যাটারিতে রাসায়নিক পরিবর্তনের কারণে গ্যাস সৃষ্টি হয়।
- শর্টসার্কিট বা ত্রুটি: ফোনের ভেতরে ত্রুটি থাকলে ফুলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ঝুঁকি:
ফুলে যাওয়া ব্যাটারি মোবাইল নষ্টের পাশাপাশি বিস্ফোরণ বা আগুনের ঝুঁকি তৈরি করে। ব্যাটারি থেকে রাসায়নিক গ্যাস বা তরল বের হলে তা ত্বক বা চোখে লাগলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
ফুলে গেলে করণীয়:
১. মোবাইল বন্ধ করুন ও চার্জার খুলুন।
২. ব্যাটারি আলাদা করা সম্ভব হলে আলতোভাবে খুলুন।
৩. ব্যাটারিতে ছিদ্র বা কাটা দেবেন না।
৪. মোবাইল বা ব্যাটারি গরম হলে ঠান্ডা স্থানে রাখুন, পানির কাছে নয়।
৫. ব্যাটারি বদলাতে বিশ্বস্ত ও অনুমোদিত সার্ভিস সেন্টার ব্যবহার করুন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারি ফুলে গেলে দ্রুত পেশাদার সহায়তা নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
সিএ/এমআর


