প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সত্য আর মিথ্যার সীমারেখা দিন দিন ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এমন কিছু এআই টুল আছে, যা মানুষের চেয়েও সুন্দরভাবে কবিতা বা প্রবন্ধ লিখতে পারে। কিন্তু এই সক্ষমতার পেছনে লুকিয়ে আছে বড় একটি সমস্যা—কেন আমরা নিশ্চিত হতে পারি না, কোন লেখা মানুষের, কোন লেখা মেশিনের?
মানুষ কখন এআই লেখা চিনতে পারে
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিজেও প্রচুর এআই টুল ব্যবহার করেন, তারা মাঝেমধ্যে এআই-এর লেখা চিনতে পারেন। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে কিছু মানুষ এমনকি মেশিনের চেয়েও ভালো গোয়েন্দার মতো শনাক্ত করতে পারেন। তবে এমন বিশেষজ্ঞের সংখ্যা খুবই সীমিত, তাই বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত স্বয়ংক্রিয় এআই টেক্সট ডিটেক্টরের ওপর নির্ভর করেন।
ডিটেকশন প্রক্রিয়া
ডিটেকশন সাধারণত তিনভাবে হয়:
১. মডেলকে মানুষ ও মেশিনের লেখার পার্থক্য শেখানো
২. শব্দচয়ন ও বাক্যগঠন বিশ্লেষণ করা, কারণ এআই সাধারণত সম্ভাব্য সবচেয়ে উপযুক্ত শব্দ বেছে নেয়
৩. ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করা, যা অদৃশ্য সংকেতের মাধ্যমে লেখা শনাক্ত করে।
কেন ডিটেকশন সবসময় কার্যকর হয় না
নতুন এআই মডেলগুলো আগের ডেটার সঙ্গে মিলিয়ে তৈরি করা হয় না। তাই অনেক সময় পুরনো ডিটেক্টর টুলগুলো নতুন লেখা শনাক্ত করতে পারে না। এছাড়া মডেলের ভেতরের তথ্য সাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়, ফলে পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতিও সর্বদা নির্ভরযোগ্য নয়। ব্যবহারকারীরা যদি চতুরতার সঙ্গে লেখা তৈরি করেন, তাহলে ডিটেক্টরকে সহজেই ফাঁকি দেওয়া সম্ভব।
সারসংক্ষেপ
দিনশেষে এআই লেখা শনাক্ত করা মোটেও সহজ নয়। শুধুমাত্র ডিটেকশন টুলের ওপর ভরসা করলেও শতভাগ নিশ্চয়তা পাওয়া যায় না। এটি প্রযুক্তি, মানবদক্ষতা এবং ক্রিয়েটিভিটির জটিল খেলার মতো, যেখানে চতুর ব্যবহারকারীরা মেশিনকে হারানোর সুযোগ রাখে।
সিএ/এমআর


