মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারকে বহনকারী লিয়ারজেট–৪৫ বিমানটি অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ করেই ‘নীরব’ হয়ে যায়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভোরে পুণে জেলার বারামতির কাছে রানওয়ের দিকে নামার সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ারের সঙ্গে বিমানের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রাডার স্ক্রিন থেকে বিমানটির অবস্থান অদৃশ্য হয়ে যায়। এরপরই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, অবতরণের অনুমতি নেওয়ার পর বিমানটি নির্ধারিত উচ্চতা কমাচ্ছিল। আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে বিমানের ইঞ্জিন ও নেভিগেশন সিস্টেমে গুরুতর ত্রুটি দেখা দেয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আকাশে নিচু দিয়ে উড়তে থাকা বিমানটি আচমকা ভারসাম্য হারিয়ে ভূমিতে আছড়ে পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।
দুর্ঘটনার সময় বিমানে অজিত পাওয়ারসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। আগুন ও বিস্ফোরণের তীব্রতায় কাউকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।
বিমান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অবতরণের ঠিক আগমুহূর্তকে উড্ডয়নের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। এ সময় ইঞ্জিন শক্তি, ফ্ল্যাপ, ল্যান্ডিং গিয়ার ও ককপিটের সমন্বয়ে সামান্য ত্রুটিও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিমানের ‘নীরব’ হয়ে যাওয়ার অর্থ হতে পারে, বিদ্যুৎ বা যোগাযোগ ব্যবস্থায় আকস্মিক ব্যর্থতা।
দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হলে প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অজিত পাওয়ারের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রসহ সারা ভারতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এই দুর্ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিএ/এসএ


