দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে ঘুষ নেওয়ার দায়ে ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিতর্কিত ধর্মীয় সংগঠন ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে হীরার গয়না ও বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ব্যাগ উপহার হিসেবে গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই দণ্ড দেওয়া হয়। তিনি অভিশংসিত সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী।
এ রায়ের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তাঁর ফার্স্ট লেডি—দুজনই ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হলেন। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যর্থ সামরিক আইন জারির চেষ্টাসহ ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইউন সুক ইওলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিশেষ প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুবিধার বিনিময়ে কিম কন হি ইউনিফিকেশন চার্চের কাছ থেকে প্রায় ৮০ মিলিয়ন ওন (প্রায় ৫৬ হাজার ডলার) মূল্যের উপহার নেন। এসব উপহারের মধ্যে ছিল গ্রাফ ব্র্যান্ডের একটি হীরার নেকলেস এবং একাধিক শ্যানেল ব্যাগ।
সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক উ ইন-সুং রায়ে বলেন, কিম কন হি ব্যক্তিগত স্বার্থে নিজের অবস্থান ও প্রভাবের অপব্যবহার করেছেন। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চ পদমর্যাদার ব্যক্তিদের এ ধরনের প্রস্তাব আরও সতর্কতার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করা উচিত ছিল, যা তিনি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষ কিমের বিরুদ্ধে ১৫ বছরের কারাদণ্ড ও ২০০ কোটি ওন জরিমানার আবেদন করেছিল। তবে আদালত বিবেচনায় নেয় যে, কিম নিজে থেকে ঘুষ দাবি করেননি এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড নেই। ফলে তাঁকে ২০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আদালত তাঁকে নগদ ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ওন ফেরত দিতে এবং হীরার নেকলেসটি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন।
একই দিনে আদালত শেয়ারমূল্য কারসাজি এবং ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে জনমত জরিপ গ্রহণসংক্রান্ত অভিযোগ থেকে কিম কন হিকে খালাস দেন। তবে ইউনিফিকেশন চার্চের অনুসারীদের রাজনৈতিক দলে যুক্ত করা ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিনিময়ে উপহার নেওয়ার অভিযোগে আরও কয়েকটি মামলা এখনো বিচারাধীন রয়েছে।
রায়ের পর দেওয়া বিবৃতিতে কিম কন হি আদালতের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়ে জনগণের কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, আদালতের কঠোর তিরস্কারের গুরুত্ব তিনি উপলব্ধি করছেন এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি হালকাভাবে নেবেন না।
সূত্র: আজকের পত্রিকা
সিএ/এসএ


