হাইস্কুলে পড়ুয়া এক কিশোরের স্মৃতিভ্রম চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের সামনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বয়স মাত্র ১৯ হলেও তার শরীরে ধরা পড়েছে অ্যালঝেইমার্স রোগ। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যেই এই রোগ বেশি দেখা যায়। কিন্তু এত কম বয়সে এমন রোগ ধরা পড়া বিশ্বজুড়ে বিরল ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঘটনাটির শুরু হয়েছিল যখন ওই তরুণের বয়স ছিল ১৭ বছর। সে তখন নিয়মিত পড়াশোনা করতে পারছিল না, ক্লাসের বিষয়বস্তু মনে রাখতে অসুবিধা হচ্ছিল। ধীরে ধীরে মনোযোগের ঘাটতি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সে গতকালের ঘটনা বা নিজের ব্যবহৃত জিনিস কোথায় রেখেছে, তাও ভুলে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, শেষ পর্যন্ত হাইস্কুলের পড়াশোনাও শেষ করতে পারেনি।
চীনের বেইজিংয়ের ক্যাপিটাল মেডিকেল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা বিষয়টি নিশ্চিত করতে ব্রেইন স্ক্যান করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, তার মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাস অংশটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক ছোট হয়ে গেছে। এই অংশটি মানুষের স্মৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষাতেও অ্যালঝেইমার্সের স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়া যায়।
সাধারণত ৩০ বছরের কম বয়সে অ্যালঝেইমার্স দেখা দিলে তার পেছনে জিনগত কারণ থাকে। এর আগে সবচেয়ে কম বয়সী রোগীর বয়স ছিল ২১ বছর এবং তার শরীরে PSEN1 জিনের পরিবর্তন পাওয়া গিয়েছিল। তবে এই ১৯ বছর বয়সী তরুণের ক্ষেত্রে জিনোম সিকোয়েন্সিং করেও কোনো ক্ষতিকর মিউটেশন পাওয়া যায়নি। তার পরিবারেও আগে কখনো অ্যালঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার ইতিহাস ছিল না।
মেমোরি ক্লিনিকে করা পরীক্ষায় দেখা যায়, সমবয়সী অন্য তরুণদের তুলনায় তার সামগ্রিক স্মৃতিশক্তি প্রায় ৮২ শতাংশ কমে গেছে। তাৎক্ষণিক স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা নেমে এসেছে ৮৭ শতাংশের নিচে। এছাড়া তার মাথায় বড় কোনো আঘাত বা স্মৃতিশক্তি নষ্ট করতে পারে এমন সংক্রমণের ইতিহাসও নেই।
অ্যালঝেইমার্স সাধারণত মস্তিষ্কে অ্যামাইলয়েড প্লাক ও টাউ প্রোটিন জমার কারণে হয়ে থাকে। এই তরুণের ক্ষেত্রেও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডে টাউ প্রোটিনের মাত্রা বেশি পাওয়া গেছে, যা সাধারণত বয়স্ক রোগীদের মধ্যেই দেখা যায়।
জার্নাল অব অ্যালঝেইমার্স ডিজিজে প্রকাশিত এই ঘটনা বিজ্ঞানীদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। গবেষকদের মতে, অ্যালঝেইমার্স রোগের গতিপথ এবং কারণ সম্পর্কে এখনও অনেক অজানা তথ্য রয়ে গেছে। তরুণ বয়সে এই রোগ দেখা দেওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে চিকিৎসা গবেষণার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সিএ/এমআর


