ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্যুরিজম বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ ঠেকাতে অপহরণের অভিযোগ ওঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ-এর বিরুদ্ধে। তবে সাহেদ দাবি করেছেন, ওই শিক্ষক নিরাপত্তা চাওয়ায় তাকে নিজ উদ্যোগে নেওয়া হয়েছিল। বুধবার দুপুর ১টা ১৯ মিনিটে তিনি ফেসবুক লাইভে ট্যুরিজম বিভাগের সভাপতি শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে নিয়ে লাইভে আসেন।
লাইভে এসে সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আমি সাহেদ, এই মুহূর্তে আমি ট্যুরিজম বিভাগের চেয়ারম্যান ছোটভাই শরিফুল ইসলাম জুয়েলের বাসায় অবস্থান করছি। উপস্থিত আছেন শরিফুল ইসলাম, নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও প্রক্টরের প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম জনি, রয়েল হক ও প্রক্টরের ড্রাইভার এবং জুয়েলের ছোট ভাই।’
লাইভে শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে কথা বলতে আহ্বান জানালে শিক্ষক জুয়েল বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন আছেন আপনাদের উদ্দেশ্যে বলছি, আমি বাসায় আছি, নিরাপদে আছি, আমাকে কেউ অপহরণ করেনি। সকাল ৯টায় সাহেদ ভাইয়ের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলাম, ১২টায় নিজে এসে ফিরে এসেছি। কোনো সমস্যা নেই। আমার সামনে সাহেদ ভাই ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আছেন।’
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তাহীনতার বিষয় ছিল, এখন কোনো সমস্যা নেই। সবাই বাসায় আছেন। আমি বাসাতে নিরাপদেই আছি। গত পরশু বিভাগে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। আজ সকালে নিয়োগ বোর্ড ছিল। এখন আমি নিরাপদে আছি। কোনো সমস্যা নেই।’
এরপর লাইভে পুনরায় সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘আপনারা অনর্থক কোনো ব্লেম গেম খেলবেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গত পরশু চারজন শিক্ষককে জিম্মি করে হুমকি-ধামকি দিয়ে প্ল্যানিং করা হয়েছিল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। আমি ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করেছি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের নির্দেশে এসব ঘটেছে। চেয়ারম্যান আমার দীর্ঘদিনের কাছের ছোটভাই। সকালে আমাকে ফোন দিয়েছিল, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিল। প্রক্টর এবং রেজিস্ট্রার তাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে, যদি না যায় তবে চাকরি খেয়ে যাবে ও শোকজ হবে। প্রক্টর নিজে নির্দেশ দিয়েছে।’
এর আগে সকাল ৯টায় নিয়োগ বোর্ড শুরুর আগে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম জুয়েলকে ঝিনাইদহের নিজ বাসভবনের বাইরে থেকে মোটরসাইকেলে নেওয়া হয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদের দ্বারা। একটি সিসিটিভি ফুটেজে এই দৃশ্য ধরা পড়ে। ঘটনার পর থেকে শিক্ষক জুয়েলের মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল, যা পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
সাহেদ আহম্মেদ প্রথমে অপহরণের বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে অস্বীকার করেন। পরে তিনি ফেসবুক পোস্টে জানিয়ে দেন, শরিফুল ইসলাম জুয়েল নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন, তাই তিনি নিজে সশরীরে গিয়ে তাকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন।
সিএ/এএ


