গবেষকরা এখন ক্যান্সারের পুনরাবৃত্তির পিছনের রহস্য উদঘাটনে লেগে আছেন। সফল চিকিৎসা শেষ হওয়ার বছর খানেক পরেও কেন ক্যান্সার আবার ফিরে আসে, তা বোঝার মূল চাবিকাঠি হলো সুপ্ত ক্যান্সার কোষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ার বাসিন্দা লিসা ডাটন ২০১৭ সালে স্তন ক্যানসারমুক্ত ঘোষিত হন। তবে তিনি জানতেন, ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই হয়তো এখানেই শেষ নয়। পরিসংখ্যান বলছে, যাদের স্তনের ক্যান্সার নিরাময় হয়, তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের ক্ষেত্রে রোগ আবার ফিরে আসে, কখনো অনেক বছর পরও।
গবেষকরা ধারণা করছেন, সুপ্ত ক্যান্সার কোষ—যাকে ডিসেমিনেটেড ক্যান্সার সেলও বলা হয়—ই পুনরায় ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এই কোষগুলো চিকিৎসার সময় টালমাটাল হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে পৌঁছে, দীর্ঘদিন ঘুমিয়ে থাকে এবং পরে জেগে উঠতে পারে।
১৯৩০-এর দশকে প্রথমবার সুপ্ত টিউমার কোষের ধারণা উঠে আসে। সেই সময় গবেষকরা লক্ষ্য করেছিলেন, বহু বছর পর ক্যান্সার ফিরে আসলেও তা আগের চেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক হতে পারে। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, সুপ্ত কোষগুলো মূল টিউমারের স্টেম সেল বৈশিষ্ট্য বহন করতে পারে এবং নতুন টিউমার তৈরি করতে সক্ষম।
কোষের সুপ্ত অবস্থার কারণ ও পুনরায় সক্রিয় হওয়ার শর্তগুলো গবেষকরা এখনো খুঁজছেন। mTOR পাথওয়ে এবং অটোফ্যাজি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষগুলো বেঁচে থাকে। রোগপ্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং শরীরের পরিবেশের পরিবর্তন যেমন আঘাত, সংক্রমণ বা মানসিক চাপ কোষগুলোর পুনর্জাগরণের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্তমানে গবেষকরা CAR-T সেল থেরাপি, mTOR ইনহিবিটার এবং অটোফ্যাজি-রোধী ওষুধের মাধ্যমে সুপ্ত ক্যান্সার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংসের চেষ্টা করছেন। CLEVER ফেজ–২ ট্রায়ালে দেখা গেছে, যৌথ চিকিৎসায় ৮৭ শতাংশ রোগীর শরীর থেকে সুপ্ত কোষ দূর করা সম্ভব হয়েছে।
লিসা ডাটন SURMOUNT পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় অংশ নিয়েছেন এবং আগামী ২০ বছর গবেষক দলের সঙ্গে সুপ্ত কোষের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন
সিএ/এমআর


