চীনে এক হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা এমন এক রহস্যে পড়লেন, যা কোনো থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম চাঞ্চল্যকর নয়। একজন নারীর লাশ পাওয়া গেল, যাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে চমকপ্রদ তথ্য প্রকাশ পেল—ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত রক্তের নমুনায় মিলল Y ক্রোমোজোম। সাধারণভাবে Y ক্রোমোজোম শুধুমাত্র পুরুষদের দেহে থাকে।
নারীদের সাধারণ ক্রোমোজোম হলো XX, আর পুরুষদের হলো XY। তাহলে এই মৃত নারীর শরীরে Y ক্রোমোজোম কিভাবে উপস্থিত হলো? আরও পরীক্ষা শেষে জানা গেল, এটি অন্য কোনো পুরুষের নয়, বরং ওই নারী নিজেই কাইমেরিজম নামের বিরল জিনগত অবস্থায় ভুগছিলেন।
কাইমেরিজম হলো এমন এক জিনগত ঘটনা যেখানে একজন মানুষের শরীরে একাধিক ধরণের কোষ থাকে, যা জিনগতভাবে ভিন্ন। এই নারীর চুলের কোষের অধিকাংশই XY ছিল, কিডনিতে XY এবং XX কোষের অনুপাত প্রায় সমান, আর শরীরের ১৬টি টিস্যু পরীক্ষা করলে বেশিরভাগই XX ছিল। তবুও তিনি দেখতে পুরোপুরি স্বাভাবিক নারী ছিলেন এবং এমনকি সন্তানও জন্ম দিয়েছিলেন।
জীববিজ্ঞানীরা বলেন, সম্ভবত মায়ের গর্ভে থাকা একটি ডিম্বাণু দুটি ভিন্ন শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত হয়েছিল। ফলে এক ভ্রুণের কোষ বিভাজনের সময় তিনটি আলাদা ধরনের কোষ তৈরি হয়। অস্বাভাবিক কোষগুলো মারা গেলেও বাকি দুটি কোষ বেঁচে থেকে নারীর দেহ গঠন করে। এই ঘটনা ট্রাইগ্যামেটিক কাইমেরিজম নামে পরিচিত।
এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। মার্কিন গায়িকা টেলর মুল এবং লিডিয়া ফেয়ারচাইল্ডের মতো কেসগুলোতে দেখা গেছে, শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অংশের কোষের DNA আলাদা হতে পারে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি আমাদের ডিএনএ এবং মানুষের জন্ম রহস্য সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে।
সিএ/এমআর


