বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্ট্রোকের ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কম বয়সীদের মধ্যেও স্ট্রোকের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞদের উদ্বিগ্ন করছে। চিকিৎসকদের মতে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ। তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। এর জন্য কম লবণযুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং মানসিক চাপ কমানোর দিকে নজর দিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ম মেনে চললে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।
ডায়াবেটিস থাকলেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। পাশাপাশি নিয়মিত ব্লাড সুগার পরীক্ষা করলে ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা যায়।
ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বাড়ায়। এর ফলে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিসের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে ধূমপান ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি।
খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল, শাকসবজি, লিন প্রোটিন এবং পূর্ণ শস্য অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কম খেলে হৃদ্যন্ত্র ও রক্তনালী সুস্থ থাকে, ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়ে, রক্তচাপ ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে শরীর সক্রিয় থাকে এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি হলে তা ধমনীতে জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। তাই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পর্যাপ্ত ঘুমও সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুম না হলে রক্তচাপ বাড়তে পারে, যা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। আবার অতিরিক্ত ঘুমও ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম ও সক্রিয় জীবনযাপন ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক।
সিএ/এমআর


