শিশু ও কিশোরদের শান্ত রাখতে বা ব্যস্ত রাখার জন্য অনেক সময় তাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে স্মার্টফোন, ট্যাব বা টিভি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গেমিং ডিসঅর্ডারকে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার স্বীকৃতি দিয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে মনোযোগ কমে যাওয়া, আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, ঘুমের সমস্যা, ভাষা ও শেখার বিকাশে দেরি, সামাজিক দক্ষতা হ্রাস এবং উদ্বেগ ও রাগের প্রবণতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে শিশুকে চুপ করাতে বা খাওয়াতে ফোন দেওয়া, অভিভাবকদের নিজের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, খেলাধুলা ও পারিবারিক সময়ের অভাব এবং স্পষ্ট নিয়মের অনুপস্থিতি থেকেই আসক্তির শুরু হয়।
ডিভাইস না পেলে তীব্র রাগ বা কান্না, পড়াশোনা ও খেলাধুলায় আগ্রহ কমে যাওয়া, রাতে ঘুমের ব্যাঘাত, পরিবারের সঙ্গে কম কথা বলা, একা থাকতে বেশি পছন্দ করা এবং স্কুলে মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিলে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ডিভাইস আসক্তি দূর করতে জোরপূর্বক নিষেধাজ্ঞা নয়, বরং বিকল্প বিনোদনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, অভিভাবকদের নিজের স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, গল্প বলা, আঁকাআঁকি, খেলাধুলা ও পারিবারিক সময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধাপে ধাপে সীমা নির্ধারণ করলে শিশুর প্রতিরোধ কমে।
শিক্ষকদেরও শিশু-কিশোরদের আচরণ পর্যবেক্ষণ ও স্ক্রিন-বিহীন সৃজনশীল কাজে উৎসাহ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আসক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
সিএ/এমআর


