ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, ওয়াশিংটনের নির্দেশে ‘অনেক হয়েছে, আর নয়’। রবিবার এই মন্তব্য তিনি করেন, যখন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে দেশটির সাবেক নেতা নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে আসার পর রদ্রিগেজকে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে—একদিকে দেশের ভেতরে মাদুরোপন্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা, অন্যদিকে হোয়াইট হাউসকে অসন্তুষ্ট না করা। এই পরিস্থিতিতে তেল উৎপাদন পুনরায় শুরুসহ নানা দাবিতে ওয়াশিংটনের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
নতুন দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক মাস পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সুর কঠোর করে বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদদের ওপর ওয়াশিংটনের নির্দেশ যথেষ্ট হয়েছে’। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন ভেনেজুয়েলানা দে তেলেভিসিওনে সম্প্রচারিত পুয়ের্তো লা ক্রুজ শহরে তেলশ্রমিকদের এক অনুষ্ঠানে রদ্রিগেজ এ মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার রাজনীতিকে আমাদের মতভেদ ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিজেদের মতো মীমাংসা করতে দিন। ফ্যাসিবাদ ও চরমপন্থার পরিণতির সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে এই প্রজাতন্ত্রকে অত্যন্ত উচ্চ মূল্য দিতে হয়েছে।’
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে এক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার ওপর ধারাবাহিক চাপ বজায় রয়েছে। সাবেক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
মাদুরোর সাবেক উপপ্রধান রদ্রিগেজ সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বারবার বলেছেন, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের শাসনে চলে না। তবে একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার পথও নেননি।
মাদুরো আটক হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে ‘চালাবে’। পরে তিনি রদ্রিগেজকে দেশের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সমর্থন দেন।
সিএ/এএ


