‘রোমান হলিডে’ খ্যাত ব্রিটিশ অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন অভিনয় গুণ ও সৌন্দর্যের প্রতিমূর্তি হিসেবে পরিচিত হলেও ব্যক্তিজীবনে ছিলেন অন্তর্মুখী এবং বইপ্রেমী। তিনি সময় পেলেই বইয়ের পাতায় চোখ বুলিয়ে নিতে পছন্দ করতেন। জানা যায়, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা তার প্রিয় তালিকায় ছিল।
বিনোদন প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন
১৯৯৩ সালের ২০ জানুয়ারি, ৬৩ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডের নিজ বাড়িতে ঘুমের মধ্যে অড্রে হেপবার্ন না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। তার শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম সিনেমার সহঅভিনেতা ও বন্ধু গ্রেগরি পেক।
উইকিমিডিয়া কমন্স থেকে জানা যায়, অড্রের প্রিয় ‘রাজকুমারী’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পেক তার প্রিয় রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘আনএন্ডিং লাভ’ (‘অশেষ ভালোবাসা’-এর ইংরেজি সংস্করণ) আবৃত্তি করেছিলেন। ১৯৯৭ সালে অড্রের মৃত্যু পরবর্তী এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পেক এই কবিতার কিছু লাইন আবৃত্তি করেন। কবিতার লাইনগুলো রবীন্দ্রনাথের মানষী কাব্যগ্রন্থের।
অড্রে হেপবার্ন মে মাসে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, যেমন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ। তিনি বিভিন্ন দেশের কবিতা পড়তে ভালোবাসতেন এবং নিজ দেশ ছাড়াও রোমান্টিক সাহিত্যে আগ্রহী ছিলেন। তিনি একাধিক ভাষায় পারদর্শী ছিলেন, যেমন ইংরেজি, ডাচ, ফরাসি, স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান।
পঞ্চাশের দশকে সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন অড্রে। ‘রোমান হলিডে’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় এবং প্রথম সিনেমাতে অস্কারও জয় করেন। ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিস’ সিনেমায় অভিনয় করে তিনি ফ্যাশন আইকনে পরিণত হন। শেষ জীবনে তিনি সিনেমা কমিয়ে দিয়ে ইউনিসেফের সেবামূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত করেন।
মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে, তবু অড্রে হেপবার্ন আজও সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন। উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘রোমান হলিডে’, ‘ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানিস’, ‘সাবরিনা’, ‘লাভ ইন দ্য আফটারনুন’, ‘ওয়ার এন্ড পিস’, ‘দ্য নান্স স্টোরি’, ‘টু ফর দ্যা রোড’, ‘মাই ফেয়ার লেডি’, ‘চারাডে’, ‘দ্য চিলড্রেন আওয়ার’, ‘দ্য আনফরগিভেন’, ‘গ্রিন ম্যানসন’, ‘ফানি ফেস’, ‘উই গো টু মন্টি কার্লো’ ইত্যাদি।
সিএ/এসএ


