পোস্টাল ব্যালটে ভোট গ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরে এ পরিপত্র জারি করা হয়।
পরিপত্রে বলা হয়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট প্রদানের জন্য ডেভেলপকৃত সফটওয়্যারে রিটার্নিং অফিসার লগইন করলে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় আসনের পোস্টাল ভোটার সংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সামগ্রিক তথ্য দেখতে পারবেন। নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যার ভিত্তিতে প্রতি ৪০০ ব্যালটের জন্য একটি করে ব্যালট বাক্স ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি ব্যালট বাক্সে সংশ্লিষ্ট আসনের নম্বর ও নাম উল্লেখ করে স্টিকার সংযুক্ত থাকবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতীক বরাদ্দের দিন বা পরদিন থেকেই পোস্টাল ব্যালট সংরক্ষণের জন্য ব্যালট বাক্স প্রস্তুত রাখতে হবে। ব্যালট বাক্স বন্ধ বা লক করার আগে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্টকে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিতভাবে আমন্ত্রণ জানাতে হবে। উপস্থিত সকলের সামনে প্রতিটি ব্যালট বাক্সে চারটি করে সিল বা লক লাগানো হবে এবং লক ও বাক্সের নম্বর উচ্চস্বরে ঘোষণা করে নথিভুক্ত করতে বলা হবে। কোনো ব্যালট বাক্স পূর্ণ হলে সেটিতে পঞ্চম লক বা সিল লাগিয়ে নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করতে হবে।
ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গ্রহণ ও সংরক্ষণের জন্য রিটার্নিং অফিসার একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে আসনভিত্তিক নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে সংরক্ষণ করবেন। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে ফরম-১২ অনুযায়ী পোস্টাল ব্যালট বিতরণ ও প্রাপ্তির তালিকা সফটওয়্যার থেকে জেনারেট হবে। যদি কোনো কিউআর কোড ডুপ্লিকেট হিসেবে শনাক্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যালট বাতিল বলে গণ্য হবে এবং খামটি না খুলেই আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হবে।
পরিপত্রে আরও বলা হয়, ভোটার যদি খামের ওপর থাকা কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ভোট দিয়ে খাম ফেরত পাঠান, তাহলে সেটি সিস্টেমে শনাক্ত হবে না এবং ওই ব্যালট বাতিল হিসেবে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রেও খামটি না খুলে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ভোটগ্রহণের দিন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালট গণনার আওতায় আনা হবে না এবং সেগুলো বাতিল হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে।
পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য প্রতিটি আসনে একজন করে প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ দেবেন রিটার্নিং অফিসার। এছাড়া প্রতি ১০০ পোস্টাল ব্যালটের জন্য একজন পোলিং অফিসার এবং প্রতি ১৫ জন পোলিং অফিসারের সমন্বয়ের জন্য একজন সহায়ক কর্মকর্তা নিয়োগের নির্দেশনা রয়েছে। গণনার সময় প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকরা উপস্থিত থাকতে পারবেন।
গণনা শেষে প্রিজাইডিং অফিসার পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ফরম-১৬ক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে ফরম-৪ এ লিপিবদ্ধ করবেন। পরে সাধারণ ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ফল যুক্ত করে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করবেন রিটার্নিং অফিসার।
এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘বেশিরভাগ পোস্টাল ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছে গেছে। প্রবাসীরা ভোট দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পোস্ট অফিসে জমা করছেন।’ তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
সূত্র: বাসস
সিএ/এসএ


