বর্তমান বিশ্বে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের সংকট এবং ঋণের চাপ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলছে। অর্থনৈতিক এই চাপ শুধু দৈনন্দিন জীবন নয়, মানুষের মানসিক স্থিতি, নৈতিকতা ও বিশ্বাসের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলছে। অনেক সময় হতাশা ও অনিশ্চয়তা মানুষকে ভেঙে দেয়। ইসলাম এই সংকটকে কেবল দুর্ভোগ নয়, বরং আল্লাহর পক্ষ থেকে এক ধরনের পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, মানুষকে ভয়, ক্ষুধা, সম্পদ ও জীবনের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হবে এবং ধৈর্যশীলদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ। অর্থনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও ধৈর্য, তাওয়াক্কুল ও সংযম বজায় রাখাই একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।
নবী করিম (সা.)-এর জীবনেও অর্থনৈতিক কষ্টের বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। সামাজিক বয়কটের সময় তিনি ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন অভুক্ত থেকেছেন, তবু কখনো আল্লাহর ওপর আস্থা হারাননি। বরং ধৈর্য ও আত্মমর্যাদার মাধ্যমে উম্মতকে পথ দেখিয়েছেন।
ইসলাম অপচয় ও বিলাসিতা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। সীমিত আয়ের মধ্যেও মিতব্যয়ী জীবনযাপন মানুষকে সংকট থেকে উত্তরণে সহায়তা করে। সুদ, ঘুষ, জুয়া ও অবৈধ লেনদেনকে ইসলাম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি হালাল উপার্জন ও ঋণ শোধে আন্তরিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংকটকালে দান ও সহযোগিতার গুরুত্বও ইসলামে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যাকাত ও সদকার মাধ্যমে সমাজের দুর্বল শ্রেণিকে সহায়তা করা এবং সম্পদের প্রবাহ সচল রাখা সামাজিক ভারসাম্য রক্ষা করে। হাদিসে বলা হয়েছে, সদকা সম্পদ কমায় না বরং বরকত বাড়ায়।
আজকের প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ধৈর্য ধারণ, অপচয় বর্জন, আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা এবং নিয়মিত দোয়া ও ইস্তিগফারই হতে পারে উত্তরণের পথ।
সিএ/এমআর


