দেশের শীর্ষ সরিষা উৎপাদনকারী জেলা সিরাজগঞ্জ। জেলার মাটি ও আবহাওয়া সরিষা চাষের জন্য খুবই উপযোগী, তাই প্রতি বছরই সরিষার আবাদ বেড়ে যাচ্ছে। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রেকর্ড পরিমাণ সরিষা ফলন হয়েছে। একই সঙ্গে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহের কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার মৌ খামারিরা।
রিংকু কুণ্ডু
সরজমিনে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ জুড়ে শুধুই হলুদ সরিষার ফুল। পুরো ফসলি জমি যেনো হলুদ ক্যানভাসে রঙিন হয়ে উঠেছে। সিরাজগঞ্জের প্রতিটি ফসলি মাঠেই এখন এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলসহ তাড়াশ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর ছাড়াও জেলার ৯ উপজেলায় সরিষা আবাদ হয়েছে প্রায় ৯০,৫৫০ হেক্টর জমিতে। তাড়াশের কৃষক আসলাম জানান, সঠিক পরিচর্যা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি বিঘা ৫-৬ হাজার টাকা খরচ করে বিঘা প্রতি ৬-৭ মণ সরিষা ফলনের আশা রয়েছে। বাজারে আশানুরূপ দাম পেলে চলতি বছরও ভালো লাভ হবে।
অন্যদিকে সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌয়ালরা। জেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে প্রায় ৩ হাজার মৌ বাক্স বসিয়ে ২০০-এর বেশি মৌ খামারি মধু সংগ্রহ করছেন।
রায়গঞ্জের মৌ খামারি শহিদুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূল না হলেও তা কাটিয়ে ওঠায় মধুর উৎপাদন বেড়েছে। প্রতিদিন লাখ লাখ মৌ মাছি সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছে। খামারিরা সাত দিন পর পর বিশেষ পদ্ধতিতে বাক্স থেকে মৌ মাছি সরিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন। তবে মধুর সঠিক বাজার ব্যবস্থা না থাকায় সিন্ডিকেটের কারণে আয়ের পুরো সুবিধা পাচ্ছেন না।
শাহজাদপুরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সরিষার আবাদ বাড়াতে সরকারিভাবে বীজ ও সার প্রদান করা হচ্ছে, যা প্রতি বছর সরিষা চাষের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করছে। উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন জানান, সরিষা চাষের পাশাপাশি মৌয়ালদের সরিষার ফুল থেকে সঠিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে চলতি বছর মধুর উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে এবার দেড় লাখ টন সরিষা এবং ৪০০ টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাজার মূল্য প্রায় ১,১০০ কোটি টাকা।
সিএ/এসএ


