নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় পৌর শহরের একমাত্র পানি নিষ্কাশনের খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খালটির বিভিন্ন অংশ ক্ষমতাশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি খালটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে মাটি ফেলে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে দখল নেওয়ার চেষ্টা করছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার। এতে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, এটি পৌর শহরের একমাত্র খাল এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা খালটি ব্যবহার করে আসছেন। খালটি এভাবে দখল হয়ে গেলে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে এবং পুরো এলাকায় জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আমলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল মুকুল বলেন, ‘সরকারি দপ্তরের কিছু অসৎ কর্মকর্তার সহযোগিতায় ফাউ কাগজ তৈরি করে আগেও দখলকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা। এখন আবার খাল দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার খালে মাটি ফেলে ভরাট করছেন এবং সেখানে ঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করছেন বলে এলাকায় আলোচনা চলছে। খালটি ভরাট হয়ে গেলে এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা দীপক বলেন, ‘বর্তমানে খালের বিভিন্ন অংশ দখলের কবলে পড়ায় শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকর নেই।’ তিনি দ্রুত পুরো খালটি দখলমুক্ত করে খননের মাধ্যমে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহরাব হোসেন তালুকদার দাবি করেন, সরকার থেকে বহু বছর আগে বন্দোবস্ত নেওয়া এটি তার নিজস্ব কাগজপত্রভুক্ত জমি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক আফরোজা আফসানা বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই মাটি ভরাটের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যিনি খালটি ভরাট করছিলেন তিনি বন্দোবস্তের কাগজ নিয়ে এসেছেন। যেহেতু এটি খাল হিসেবে দেখেছি আমরা, তাই ওই কাগজপত্রসহ অন্যান্য বিষয় তদন্তের করতে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালটি পানি চলাচলের অন্যতম মাধ্যম। এটি ভরাট হয়ে গেলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে। সে কারণে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সিএ/এএ


