ওমরাহ ও হজ পালনকালে ইহরাম অবস্থায় কী ধরনের পোশাক ব্যবহার করা যাবে বা যাবে না—এ বিষয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে। বিশেষ করে সেলাইযুক্ত বেল্ট ব্যবহার করা যাবে কি না এবং এতে কোনো জরিমানা বা দম দিতে হবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা যায়।
ইহরাম বাঁধার পর পুরুষের জন্য সেলাইকৃত পোশাক পরিধান নিষিদ্ধ। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মুহরিম ব্যক্তি জামা, পাগড়ি, টুপি, পায়জামা, রঞ্জিত কাপড় এবং মোজা পরিধান করবে না। তবে চপ্পল না পেলে মোজা কেটে পরার অনুমতি রয়েছে। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, শরীরের অবয়ব অনুযায়ী তৈরি পোশাক পরিধানই মূলত নিষিদ্ধ।
এ কারণে ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের পাঞ্জাবি, জুব্বা, শার্ট, প্যান্ট, গেঞ্জি, কোট, টুপি, পাগড়ি ইত্যাদি সেলাইকৃত পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে হয়। তবে সেলাইযুক্ত বেল্ট বা ব্যাগ এই নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। ইহরামের কাপড়ের ওপর বেল্ট পরিধান করা এবং সেলাইকৃত ব্যাগ ব্যবহার করা জায়েজ। কারণ যে কোনো বস্তুতে সেলাই থাকলেই তা নিষিদ্ধ হয়ে যায় না।
এমনকি ইহরামের কাপড় ছিঁড়ে গেলে তাতে সেলাই বা তালি লাগালেও ইহরামের কোনো সমস্যা হয় না। মূল নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে এমন পোশাক পরিধান করা, যা মানুষের শরীরের আকৃতি অনুযায়ী সেলাই করা।
সেলাইযুক্ত বেল্ট ব্যবহার করা যেহেতু নিষিদ্ধ নয়, তাই এ কারণে কোনো দম বা সদকা দিতে হয় না। তবে কেউ যদি ইহরামের নিয়ত ও তালবিয়া পড়ার পর সেলাইকৃত পোশাক পরিধান করে বারো ঘণ্টা বা তার বেশি সময় কাটায়, তাহলে একটি দম ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ একটি ছাগল বা দুম্বা জবাই করে তার মাংস দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হয়। বারো ঘণ্টার কম কিন্তু এক ঘণ্টার বেশি সময় সেলাইকৃত পোশাক পরলে পৌনে দুই কেজি গম বা তার মূল্য সদকা করতে হয়। এক ঘণ্টার কম হলে এক মুষ্টি গম বা তার মূল্য সদকা করলেই যথেষ্ট।
সিএ/এমআর


