জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান সুসংহত করতে এবং জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে চাঁদপুরের হাইমচরে নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বৈধ জাল বিতরণ করা হয়েছে।
ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচিত জেলে পল্লীর মৎস্যজীবীদের হাতে মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়।উপকরণ সমূহের মধ্যে ছিল উন্নত মানের সুতার চান্দী জাল, চাক্কি, ফ্লুটসহ মাছ ধরার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক, শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ,
জেলেদের মাঝে বৈধ জাল ব্যবহারের সুফল ও প্রয়োজনীয়তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা শুধু সরকারের কাজ নয়, বরং নদী তীরের সকল মৎস্যজীবীর নৈতিক দায়িত্ব। কারেন্ট জাল বা নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করে বৈধ জালের মাধ্যমে মাছ আহরণ করলে যেমন ইলিশের উৎপাদন বাড়বে, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে জেলেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।” তিনি জেলেদেরকে সরকারি আইন মেনে চলার ও জাটকা নিধন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি, চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম। তিনি জেলার মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন।
বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন,এ.বি.এম. আশরাফুল হক, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা। মোঃ মাহবুব রশীদ, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, হাইমচর। মোঃ আসলাম হোসেন, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, চাঁদপুর।ইজাজ মাহমুদ, ক্ষেত্র সহকারী, ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, হাইমচর।
প্রকল্পের আওতায় বৈধ জাল হাতে পেয়ে জেলেরা আনন্দ প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান এবং উন্নত সরঞ্জাম প্রদানের মাধ্যমে তাদের নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার থেকে সরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এর ফলে মেঘনা নদীর ওপর নির্ভরশীল হাজারো জেলের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বক্তারা আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান সরকার ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছে। কোনোভাবেই যাতে মেঘনা ও পদ্মা নদীতে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শিমুল অধিকারী সুমন,চাঁদপুর প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


