ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ভাস্কর্য সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে।
সাময়িক অপসারণের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি এক্সকাভেটর দিয়ে ভাস্কর্যটি সরানো হচ্ছে। এসময় সেখানে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, ‘দুদিন আগে সড়ক সম্প্রসারণ কাজের জন্য ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান আমাদের গর্ব। তার নামে নির্মিত ভাস্কর্যটি আগের নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণ করা উচিত।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে সরানো হয়েছে। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অসম্মান বা অবহেলার বিষয় নেই। সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করে ভাস্কর্যটি পুনরায় নির্মাণ করা হবে।
ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের একটি বিমান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। তার অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর এলাকায়। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে তার গ্রামের বাড়িতে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় তার নামে একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা বলেন, ‘ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান থাকায় ভূমি অধিকার কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভাস্কর্যটি সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়েছে। আগের নকশা অনুযায়ী পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
সিএ/এএ


