সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে আগামী মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় বেলা ২টা ৩৩ মিনিটে পৃথিবী ঠিক ৭ সেকেন্ডের জন্য মাধ্যাকর্ষণ শক্তি হারাবে। ভাইরাল পোস্টগুলোতে বলা হয়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে নাসার একটি গোপন নথি ‘প্রজেক্ট অ্যাংকর’-এ এমন তথ্য উল্লেখ ছিল। সেখানে আরও দাবি করা হয়, এই স্বল্প সময়ের মাধ্যাকর্ষণহীনতার ফলে প্রায় চার কোটি মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং সম্ভাব্য বিপদ থেকে রক্ষার জন্য বিশ্বের ধনীরা মাটির নিচে বাংকার তৈরি করছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এসব দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। সংস্থাটি সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিতে এবং যাচাইহীন তথ্য শেয়ার না করার পরামর্শ দিয়েছে। নাসার এক মুখপাত্র বলেন, মাধ্যাকর্ষণ কোনো সুইচ নয় যে ইচ্ছামতো চালু বা বন্ধ করা যাবে। পৃথিবীর ভর যতদিন অপরিবর্তিত থাকবে, ততদিন এর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিও স্থায়ী থাকবে। পৃথিবীর কেন্দ্র, ম্যান্টল, ভূত্বক, মহাসাগর ও বায়ুমণ্ডলের সম্মিলিত ভরের কারণেই এই শক্তি বজায় থাকে।
গুজবটির সূত্রপাত হয় একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর পোস্ট থেকে, যিনি নিজেকে কখনো গুগলের কর্মী, কখনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কিংবা অপরাধবিজ্ঞানী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য এক্সসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে। গুজবকারীদের দাবি ছিল, দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষ থেকে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রভাবে পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ক্ষণিকের জন্য নষ্ট হবে।
তবে যুক্তরাজ্যের হার্টফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটির ব্ল্যাকহোল বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম অলস্টন জানান, মহাকর্ষীয় তরঙ্গ এতটাই দুর্বল যে তা মানুষের শরীরের মধ্য দিয়ে চলে গেলেও অনুভূত হয় না। এসব তরঙ্গ কেবল পরমাণুর চেয়েও ক্ষুদ্র মাত্রায় সংকোচন ও প্রসারণ ঘটাতে পারে, যা পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তিকে প্রভাবিত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
এদিকে, চলতি বছরের মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় এলেও তা পৃথিবীর মোট মাধ্যাকর্ষণের ওপর কোনো অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলে না। কেবলমাত্র জোয়ার–ভাটার শক্তিতে সামান্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।
সিএ/এমআর


