বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা প্রায়ই প্রস্রাব পরীক্ষা করতে দেন। তবে নমুনা সংগ্রহের সময় সঠিক নিয়ম না মানলে রিপোর্ট ভুল বা অসম্পূর্ণ আসতে পারে। তাই নির্ভুল ফলাফল পেতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
নমুনা দেওয়ার আগে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করা উচিত নয়। এতে প্রস্রাবে প্রোটিনের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ক্যাফেইন, নিকোটিন, বিটরুট, লাল ড্রাগন ফল এবং অতিরিক্ত মাংস বা মাছ খাওয়া এড়িয়ে চলা ভালো। উচ্চমাত্রার ভিটামিন সেবন করাও পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। যাঁরা অ্যাসপিরিন বা অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করছেন, তাঁদের অবশ্যই চিকিৎসককে আগে জানাতে হবে।
মাসিক চলাকালীন বা শারীরিক ঘনিষ্ঠতার পর প্রস্রাবের নমুনা দেওয়া উচিত নয়। এতে রিপোর্টে রক্তের উপস্থিতি বা অন্যান্য বিভ্রান্তিকর তথ্য দেখা যেতে পারে। নমুনা সংগ্রহের সময় প্রথমে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে এবং মূত্রনালির আশপাশ পরিষ্কার করতে হবে। সাধারণত সকালবেলার প্রথম প্রস্রাব পরীক্ষার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
প্রস্রাব শুরু করে কিছুটা ফেলে দিয়ে মাঝামাঝি প্রবাহ থেকে টিউবে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ করে এক ঘণ্টার মধ্যে ল্যাবরেটরিতে জমা দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টার প্রস্রাব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম সকালের প্রস্রাব ফেলে দিয়ে পরবর্তী সময় থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সব প্রস্রাব সংগ্রহ করতে হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে তা ল্যাবে জমা দিতে হয়।
প্রস্রাবের সংক্রমণ শনাক্তে কালচার টেস্ট করা হলে নমুনা দেওয়ার আগে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার পর ওষুধ গ্রহণ করা নিরাপদ। এতে সঠিক জীবাণু শনাক্ত করা সম্ভব হয় এবং চিকিৎসা আরও কার্যকর হয়।
সিএ/এমআর


