শিক্ষা কেবল পাঠ্যবই, পরীক্ষা কিংবা শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার (সি আর আবরার)। তিনি বলেন, মানুষের অন্তর্নিহিত প্রতিভা, সৃজনশীলতা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশই প্রকৃত শিক্ষার মূল লক্ষ্য। শিক্ষাজীবন যেন আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও জীবনঘনিষ্ঠ হয়—সে দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সব অংশীজনের।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিক্ষা উপদেষ্টা। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি ও মাদ্রাসাশিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সারা দেশ থেকে ৯৮১ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাগুলোর চূড়ান্ত মূল্যায়নে ২৬১ জন শিক্ষার্থীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক চর্চা, সমাজসেবা ও নেতৃত্ব বিকাশমূলক সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিত্ব গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বাড়াতে সহায়ক।
তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এখনো পাঠ্যবই ও পরীক্ষার ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা রয়েছে, যা শিশু-কিশোর ও তরুণদের স্বাভাবিক প্রতিভা বিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষাক্রম ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য নতুন করে পর্যালোচনার সময় এসেছে।
প্রতিটি স্কুলকেই ভালো স্কুলে পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে নয়, বরং সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর সহজাত মেধা ও আগ্রহের পূর্ণ বিকাশ সম্ভব হবে।
বক্তব্য শেষে শিক্ষা উপদেষ্টা জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৬-এর বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহশিক্ষা কার্যক্রমের চেতনা আরও বিস্তৃত করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সিএ/এসএ


