বিশ্বায়নের এই সময়ে বিদেশে উচ্চশিক্ষা অনেক তরুণের কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন। ভালো স্কলারশিপ, উচ্চ আইইএলটিএস বা জিআরই স্কোর—এসবকে অনেকেই বিদেশে পড়াশোনার সাফল্যের নিশ্চয়তা মনে করেন। তবে বাস্তবতা হলো, শুধু নম্বর বা সনদের জোরে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে থাকা কিংবা নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। গবেষণার প্রস্তুতি ও মানসিকতা ছাড়া বিদেশে উচ্চশিক্ষায় পা রাখলে সেই স্বপ্ন একসময় দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহা. ইয়ামিন হোসেন মনে করেন, গবেষণা না জানা শিক্ষার্থী শুধু নিজের নয়, দেশ ও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, গবেষণা না শিখে প্লিজ বিদেশে উচ্চশিক্ষায় যাবেন না। আপনার এই না জানাটা দেশ ও নিজ প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে। তার মতে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে একবার যদি গবেষণায় অদক্ষ শিক্ষার্থী গিয়ে ব্যর্থ হয়, তবে ভবিষ্যতে সেই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে আর শিক্ষার্থী নিতে আগ্রহী নাও হতে পারে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু মৌলিক বিষয় গভীরভাবে বিবেচনা করা জরুরি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে গেলে শুধু আইইএলটিএস, টোয়েফল বা জিআরই স্কোরের ওপর নির্ভর করলেই চলবে না। পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ, প্রস্তুতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার মান অনেক উঁচু এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত হতে হয়। তাই কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কী ধরনের গবেষণা হচ্ছে এবং সেটি নিজের আগ্রহ ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা আগেই বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
আইইএলটিএস বা টোয়েফল মূলত ইংরেজি দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা হলেও, উচ্চ স্কোরের পাশাপাশি একাডেমিক ফলাফল ও গবেষণা দক্ষতাকে এখন বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জিআরই বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, শুধু ভালো স্কোর পেলেই ভর্তি নিশ্চিত হয় না। একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, গবেষণা অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকদের সঙ্গে যোগাযোগও বড় ভূমিকা রাখে।
বিদেশে গিয়ে সফলভাবে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হলে কেবল স্কলারশিপ পাওয়াই শেষ কথা নয়। অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, নতুন ধারণা গ্রহণের মানসিকতা এবং গবেষণাভিত্তিক দক্ষতা অপরিহার্য। গবেষণার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও পেশাগত ক্যারিয়ার গড়তে বড় সহায়ক ভূমিকা রাখে।
বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শুধু স্কোর বা স্কলারশিপের ভিত্তিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে না। পর্যাপ্ত গবেষণা অভিজ্ঞতা বা সুস্পষ্ট গবেষণা পরিকল্পনা না থাকলে মাঝপথে শিক্ষার্থীকে ফেরত পাঠানোর ঝুঁকিও থাকে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গবেষণা পরিকল্পনা ও দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম ও অধ্যাপকদের গবেষণা ক্ষেত্র সম্পর্কে আগে থেকেই জানাশোনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে সুযোগ ও অগ্রগতির পথ আরও সুগম হয়।
সিএ/এসএ


