ছোটবেলা থেকে আমরা প্রায় সবাই শুনে এসেছি— “ভেজা চুল নিয়ে বসো না”, “ভেজা মাথায় বাইরে যেও না।” তখন এসব কথা শুধুই বকুনি মনে হলেও বড় হয়ে দেখা যায়, এর ভেতরে বাস্তব অভিজ্ঞতার সত্যতা রয়েছে। চুল ভেজা অবস্থায় রাখলে তা মাথার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর এবং বিভিন্ন চুলের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।
ভেজা চুলের কারণে বারবার খুশকি হওয়া, চুলকানি, অল্পতেই চুল পড়া বা মাথার ত্বক তেলতেলে হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। চুল ধোয়ার পর যদি তা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকে, তবে মাথার ত্বক নরম হয়ে যায় এবং তার স্বাভাবিক শক্তি হারায়। এই দুর্বল অবস্থায় ধুলো, ময়লা, জীবাণু ও ছত্রাকের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
আমাদের আবহাওয়ায় বিশেষ করে গরম, আর্দ্রতা ও ঘামসহ ধুলো পরিবেশ মাথার ত্বকের শত্রু। এই অবস্থায় ভেজা চুল বেঁধে রাখা, হেলমেট পরা বা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখা খুশকি ও চুলকানি বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভেজা চুল চুলকানি বাড়ানোর মূল কারণ হলো মাথার ত্বকের তেলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। কখনো অতিরিক্ত তেল উঠে যায়, আবার কখনো ত্বক নিজেকে বাঁচাতে বেশি তেল উৎপন্ন করে। দু’ই ক্ষেত্রেই চুলকানি দেখা দেয়। এছাড়া ভেজা চুলে চুল পড়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে। এই সময়ে চুল সহজেই ভেঙে যায়, বিশেষ করে যদি চুল টান দিয়ে বা শক্ত করে আঁচড়ানো হয়।
ভেজা চুল বাঁধা থাকলে মাথার ত্বকে আর্দ্রতা আটকে যায়। তেলের সঙ্গে মিলিত হয়ে চুলের গোড়ায় বাধা সৃষ্টি করে, যা ছোট ফোঁড়া, ব্যথা বা মাথার ব্রণও তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন এমন চললে চুল গজানোও বাধাগ্রস্ত হয়।
খুশকি সবসময় শুষ্ক মাথার জন্য নয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ও ভেজা পরিবেশে ছত্রাক বৃদ্ধি পাওয়াতেই খুশকি হয়। তাই ঘন ঘন চুল ধোয়া হলেও তা ঠিকমতো শুকানো না হলে খুশকি আরও বাড়তে পারে।
ভেজা চুলে ঘুমানো সবচেয়ে খারাপ অভ্যাস। রাতে চুল ভেজা থাকলে বালিশে জমে থাকা জীবাণু মাথায় চলে আসে, ঘষার কারণে চুল ভেঙে যায়। এর ফলে খুশকি, দুর্গন্ধ, চুলকানি ও চুল পড়া আরও বৃদ্ধি পায়।
ভেজা চুলে হেলমেট পরাও বিপজ্জনক। হেলমেটের ভিতরে গরম ও ঘাম আটকে গেলে ছত্রাক সংক্রমণ, অতিরিক্ত তেল ও ‘হেলমেট খুশকি’ দেখা দেয়। বাইরে বেরোতে হলে অন্তত মাথার ত্বক সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া উচিত।
চুল ধোয়া বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। সমস্যা চুল ভেজা থাকা নয়, সমস্যা হলো—ধোয়ার পর মাথা দীর্ঘ সময় ভেজা থাকা। তাই কিছু ছোট অভ্যাস মানলেই সমস্যা অনেকটা এড়ানো সম্ভব:
চুল ধোয়ার পর আগে মাথার ত্বক শুকান
হেয়ার ড্রায়ার হালকা গরমে ব্যবহার করুন
ভেজা চুল শক্ত করে বাঁধবেন না
বালিশের কভার নিয়মিত বদলান
বর্ষায় বা শীতে বেশি তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
মাথা চুলকালে অবহেলা করবেন না
ভেজা চুল নিজেই ক্ষতিকর নয়। সমস্যা হলো—ভেজা মাথার ত্বক দীর্ঘ সময় ভেজা থাকা। সঠিক যত্ন ও ধোয়ার পর চুল শুকানোর অভ্যাস মেনে চললে খুশকি, চুলকানি এবং চুল পড়া অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সিএ/এসএ


