মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ইমান। এই ইমানের মূল ভিত্তি হলো কালিমা তাইয়্যেবা। ইমান ছাড়া কোনো নেক আমলই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়—পরকালের মুক্তির জন্য ইমানের কোনো বিকল্প নেই। তাই একজন মুসলমানের জীবনে কালিমা তাইয়্যেবার গুরুত্ব অপরিসীম।
কালিমা তাইয়্যেবা সেই মৌলিক বাক্য, যার মাধ্যমে একজন মানুষ তার ইমানের ঘোষণা দেয়। কালিমা তাইয়্যেবা হলো— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। এর অর্থ— আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। এই কালিমার মাধ্যমে আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রিসালাতের সাক্ষ্য দেওয়া হয়।
কালিমা তাইয়্যেবার উভয় অংশই পবিত্র কোরআনে বিদ্যমান। ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ উল্লেখ রয়েছে সুরা সাফফাতের ৩৫ নম্বর আয়াতে। আর ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ বর্ণিত হয়েছে সুরা ফাতহের ২৯ নম্বর আয়াতে। এতে প্রমাণিত হয়, কালিমা তাইয়্যেবা কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক একটি মৌলিক আকিদা।
হাদিসে কালিমা তাইয়্যেবার বহু ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলেছে।’ (সহিহ বুখারি: ১১৭৬)। এ থেকে বোঝা যায়, একনিষ্ঠভাবে এই কালিমা পাঠ করা জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হতে পারে।
আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম)। কিয়ামতের দিন নবীজি (সা.)-এর সুপারিশ লাভের ক্ষেত্রেও কালিমা তাইয়্যেবার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ হৃদয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে।’ (সহিহ বুখারি: ৯৯)।
কালিমা তাইয়্যেবা কবরের জীবনেও মুমিনের জন্য সহায়ক। কবরের জিজ্ঞাসাবাদের সময় মুমিন যখন এই সাক্ষ্য প্রদান করে, তখন আল্লাহ তাকে অবিচল ও সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন বলে সুরা ইবরাহিমের ২৭ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া হাদিসে এসেছে, ইমানের সত্তরের বেশি শাখার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা। (সহিহ মুসলিম: ৩৫)।
সব মিলিয়ে কালিমা তাইয়্যেবা হলো ইমানের কেন্দ্রবিন্দু। এর অর্থ ও দাবি হৃদয়ে ধারণ করা, মুখে স্বীকার করা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনার মাধ্যমেই ইমান পূর্ণতা লাভ করে।
সিএ/এসএ


