দেশের আকাশে শাবান মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। এই হিসাবে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে। আরবি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী রাত আগে গণনা হয় বলে শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতই শবে বরাত হিসেবে বিবেচিত।
শবে বরাত একটি মর্যাদাপূর্ণ রাত। ফারসি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত এবং ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি, শান্তি ও সৌভাগ্য। আরবিতে এ রাতকে লাইলাতুল বরাত বলা হয়। এই রাতে অনেক মুসলমান নফল ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন এবং পরদিন রোজা রাখেন।
শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোজা রাখার বিষয়ে ইসলামে মাসে তিন দিন রোজা রাখার সুন্নতের কথা উল্লেখ রয়েছে। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে প্রতি মাসে তিন দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদেরও এ আমলের নির্দেশ দিতেন। হাদিসে মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়েছে এবং এই দিনগুলোতে রোজা রাখার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
এই হিসাবে চলতি বছরে ১, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি (রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার) শাবান মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ হওয়ায় এই তিন দিন রোজা রাখা যাবে। এতে আইয়ামে বীজের সুন্নত রোজাও আদায় হবে, পাশাপাশি শবে বরাত উপলক্ষে রোজার আমলও সম্পন্ন হবে।
হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) উল্লেখ করেছেন, নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে তিন দিনের কথা বলেছেন, সেই তিন দিন রোজা রাখাই সর্বোত্তম আমল। সে হিসেবে শাবান মাসেও আইয়ামে বীজের রোজা রাখা সুন্নত হিসেবে বিবেচিত।
শাস্ত্রীয় আলোচনায় ১৫ শাবানকে আলাদাভাবে রোজা রাখার বিষয়ে একটি বর্ণনা পাওয়া যায়, তবে তা হাদিস বিশারদদের কাছে দুর্বল হিসেবে বিবেচিত। এ কারণে শুধুমাত্র ওই বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে ১৫ শাবানের রোজাকে পৃথকভাবে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলা সঠিক নয় বলে অনেক মুহাক্কিক আলেম মত দিয়েছেন। তবে যেহেতু ১৫ তারিখ আইয়ামে বীজের অন্তর্ভুক্ত, তাই ১৩ ও ১৪ তারিখের সঙ্গে মিলিয়ে এ দিনের রোজা নিঃসন্দেহে সুন্নত হিসেবে গণ্য হবে।
মুফতি তাকি উসমানী এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদিসের বিশাল ভাণ্ডার হতে একটি মাত্র হাদিস এর সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, ‘শবে বরাতের পরবর্তী দিনটিতে রোজা রাখ’। সনদ ও বর্ণনার সূত্রের দিক থেকে হাদিসটি দুর্বল। তাই এ দিনের রোজাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদিসের দিকে তাকিয়ে সুন্নত বা মুস্তাহাব বলে দেয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতেই অনুচিত।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শাবান মাসে সাধারণভাবে বেশি বেশি রোজা রাখার ফজিলত রয়েছে। তবে রমজানের দু-একদিন আগে রোজা রাখতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন, যাতে রমজানের জন্য পূর্ণ স্বস্তি ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা যায়।
সব মিলিয়ে শাবান মাসের ১৫ তারিখে রোজা রাখা যাবে। ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ একসঙ্গে তিন দিন রোজা রাখা উত্তম হলেও কেউ চাইলে কেবল ১৫ তারিখও রোজা রাখতে পারেন। তবে একে আলাদাভাবে বিশেষ সুন্নত হিসেবে গণ্য না করে আইয়ামে বীজের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করাই সঠিক।
সিএ/এসএ


