সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘২০১৬ থ্রোব্যাক’ ট্রেন্ড। সাধারণ ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি তারকারা নিজেদের পুরোনো ছবি, ভিডিও, গান ও ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করে ফিরে যাচ্ছেন ২০১৬ সালের স্মৃতিতে। নিউজ ফিডজুড়ে দেখা যাচ্ছে সেই সময়ের ফ্যাশন, সিনেমার গান ও নস্টালজিক স্ট্যাটাস। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই একটি বছরকে ঘিরেই এমন আবেগ?
বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৬ সালকে অনেকেই তুলনামূলকভাবে শান্ত, স্থিতিশীল ও স্বস্তির সময় হিসেবে মনে করেন। করোনা মহামারির আগে ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার ছিল সীমিত ও সহজ। তখন মানুষ মূলত ব্যক্তিগত মুহূর্ত, বিনোদন ও ফ্যাশন বিষয়ক কনটেন্ট শেয়ার করত, যা মানসিক চাপ তুলনামূলকভাবে কম রাখত।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতিমারি, দীর্ঘ লকডাউন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট ও যুদ্ধ মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। এর বিপরীতে ২০১৬ সালের স্মৃতি অনেকের কাছে নিরাপদ ও সুখকর সময়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। নতুন বছর ২০২৬ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই স্বস্তির অনুভূতি আবার ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই নেটিজেনরা ২০১৬ সালের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেন।
অনেকে ২০২৬ সালকে ‘নতুন ২০১৬’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০১৬ সালের স্মৃতি ঘিরে এখন পর্যন্ত কোটি কোটি পোস্ট শেয়ার হয়েছে। বিশেষ করে টিকটকে ‘২০১৬’ সার্চ ও সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই সময়কে কেন্দ্র করে তৈরি বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে।
সাংস্কৃতিক গবেষকদের মতে, বর্তমান অস্থির সময়ের তুলনায় ২০১৬ সালে সংস্কৃতি, সঙ্গীত ও জীবনযাত্রায় একটি স্থিতিবস্থা ছিল, যা মানুষকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিত। মনোবিজ্ঞানীরাও বলছেন, সময় যত জটিল হয়ে উঠছে, মানুষ ততই এমন অতীতে ফিরতে চাইছে যা স্থিতিশীলতার অনুভূতি দেয়। এ কারণেই এক দশক আগের একটি নির্দিষ্ট বছর ঘিরে বিশ্বজুড়ে এই নস্টালজিক প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০১৬ সালে ফিরে যাওয়ার এই ট্রেন্ড কেবল একটি সোশ্যাল মিডিয়া হাইপ নয়; বরং এটি বর্তমান বাস্তবতার চাপ থেকে সাময়িক মুক্তি খোঁজার এবং নতুন বছরকে আশাবাদ দিয়ে শুরু করার এক ধরনের মানসিক প্রয়াস হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: ইউএসএ টুডে, বিবিসি
সিএ/এসএ


