গ্রিনল্যান্ড থেকে ‘রাশিয়ান হুমকি’ দূর করতে ডেনমার্ক কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এ কারণে এখন এ বিষয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, গত দুই দশক ধরে ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ড থেকে রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও দেশটি বাস্তবে কিছুই করতে পারেনি। তাঁর ভাষায়, এই ব্যর্থতার ফলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠেছে এবং এখন এটি সমাধানে এগিয়ে আসা জরুরি।
রয়টার্সের একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে হোয়াইট হাউস, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ডেনিশ প্রেসিডেন্সি এবং ডেনমার্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তাঁর মতে, চীন ও রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক উপস্থিতির কারণে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে ট্রাম্পের এই অবস্থানের কড়া বিরোধিতা করেছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড উভয় পক্ষই। দুই দেশের নেতারা একাধিকবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না।
এরই মধ্যে শনিবার ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ড কিনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এই বক্তব্য ইউরোপীয় রাজনীতিকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ডেনমার্কসহ ইউরোপের অন্যান্য কর্মকর্তারা পাল্টা যুক্তিতে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইতোমধ্যেই ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় রয়েছে। ফলে দ্বীপটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এককভাবে দুর্বল নয় এবং ডেনমার্ক এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তারা দাবি করেন।
সিএ/এসএ


