সিরিয়ায় কয়েকদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর সরকার ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা প্রশমনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের পথ উন্মুক্ত হলো।
চুক্তি অনুযায়ী, ইউফ্রেটিস নদীর পশ্চিমাঞ্চল থেকে এসডিএফ বাহিনী প্রত্যাহার করবে এবং ধাপে ধাপে সিরিয়ার কেন্দ্রীয় সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একীভূত হবে। একই সঙ্গে আরব সংখ্যাগরিষ্ঠ দেইর আল-জোর ও রাক্কা প্রদেশ থেকেও সরে যেতে সম্মত হয়েছে কুর্দি নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৪ দফা বিশিষ্ট এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়। সরকারের পক্ষে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং এসডিএফ-এর পক্ষে সংগঠনের প্রধান মাজলুম আবদি চুক্তিতে সই করেন। চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনার জন্য সোমবার রাজধানী দামেস্কে দুই পক্ষের বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকের পর চুক্তির বিস্তারিত শর্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা জানিয়েছেন, এই চুক্তির ফলে আল-হাসাকা, দেইর আজ-জোর ও রাক্কা প্রদেশের প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর আলোচনার মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিষয়টি জটিল ও চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি ও একীভূতকরণের এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জর্ডান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই সমঝোতা সিরিয়ার ঐক্য, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা জোরদারে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। একই দিনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার মধ্যে টেলিফোনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সিএ/এসএ


