ইসলাম মানুষের জীবনকে শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেনি; বরং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর নৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার নির্দেশ দিয়েছে। মানুষের পাপের চিত্র অনেক সময় হাতের জুলুম, চোখের অবাধ্য দৃষ্টি কিংবা জিহ্বার মিথ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করে দেখা হয়। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের সূচনা ঘটে মানুষের পেট থেকে, অর্থাৎ হারাম উপার্জন ও অবৈধ খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের দেহের যে অংশ প্রথম দুর্গন্ধময় হবে, তা হলো পেট। যে ব্যক্তি সামর্থ্য রাখে, সে যেন শুধু হালাল খাদ্য গ্রহণের চেষ্টা করে। এই হাদিস মানুষের ব্যক্তিগত চরিত্র, ইবাদত এবং সামাজিক আচরণের গভীর সম্পর্ককে স্পষ্ট করে দেয়। পেট মানুষের প্রবৃত্তি ও লোভের প্রবেশদ্বার হওয়ায় এখানেই সীমালঙ্ঘনের সূচনা ঘটে।
কোরআনেও হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মানুষকে পৃথিবীর বৈধ ও কল্যাণকর খাদ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যা কেবল শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়; বরং নৈতিক ও আত্মিক পরিশুদ্ধতার জন্যও অপরিহার্য।
হারাম উপার্জনের প্রভাব সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি এমন ব্যক্তির উদাহরণ দিয়েছেন, যে ধূলিধূসরিত অবস্থায় দুহাত তুলে দোয়া করে, অথচ তার খাদ্য, পানীয় ও পোশাক সবই হারাম। এমন অবস্থায় তার দোয়া কবুল হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ থেকে বোঝা যায়, হারাম উপার্জন মানুষের ইবাদত ও দোয়ার পথে এক অদৃশ্য দেয়াল সৃষ্টি করে।
সমাজে দুর্নীতি, ভেজাল, সুদ ও অন্যায় ব্যবসার বিস্তারের পেছনেও এই সীমালঙ্ঘন বড় ভূমিকা রাখছে। মানুষ উপার্জনের উৎস নিয়ে প্রশ্ন না করায় নৈতিক অবক্ষয় বাড়ছে এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
ইসলাম শিক্ষা দেয়, তাকওয়া শুধু নামাজ বা রোজার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বাজার, অফিস, ব্যবসা ও উপার্জনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার বাস্তব প্রয়োগ থাকতে হবে। হালাল খাদ্য গ্রহণ মানে শুধু শরীরকে নয়, ঈমান, পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সুরক্ষিত রাখা।
পরিশেষে বলা যায়, পেট মানুষের নৈতিক মানচিত্রের কেন্দ্রবিন্দু। যে ব্যক্তি এটিকে হালালের সীমার মধ্যে রাখতে পারে, তার জন্য কল্যাণের পথ সহজ হয়। আর যে ব্যক্তি এতে শিথিলতা দেখায়, তার প্রভাব ব্যক্তি থেকে সমাজ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
সিএ/এমআর


