শীতকালে ঘর পরিপাটি ও আরামদায়ক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যার পাশাপাশি বাতাসের গুণমানও গুরুত্বপূর্ণ।
ধুলা পরিষ্কার, আসবাব গোছানো কিংবা আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা যেমন জরুরি, তেমনি ঘরের ভেতরে কোনো দুর্গন্ধ না থাকা স্বাস্থ্যকর পরিবেশের জন্য প্রয়োজনীয়। এ কারণেই অনেকেই কৃত্রিম স্প্রে ব্যবহার করেন, আবার কেউ কেউ প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরের বাতাসে সুবাস ছড়িয়ে দিতে পছন্দ করেন। শুধু আরাম নয়, এই সুবাস ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি রোগব্যাধি ও জীবাণুর উপস্থিতির সঙ্গেও সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এ বিষয়ে একটি পুরোনো ধারণা রয়েছে, যাকে বলা হয় মিয়াজমা তত্ত্ব।
মিয়াজমা তত্ত্ব অনুযায়ী একসময় ধারণা করা হতো, রোগব্যাধি জীবাণু থেকে নয়, বরং পচা বা দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস থেকে ছড়ায়। উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই ধারণা বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ছিল। ‘মিয়াজমা’ শব্দটি গ্রিক ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ দূষণ বা কলুষতা। তখনকার মানুষ বিশ্বাস করত, পচা জৈব পদার্থ, আবর্জনা কিংবা মৃত প্রাণীর দুর্গন্ধ থেকে এক ধরনের বিষাক্ত বাতাস তৈরি হয়। সেই বাতাস শ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এই বিশ্বাস থেকেই সুগন্ধির ব্যবহার, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ঘরের ভেন্টিলেশনের ওপর গুরুত্ব বাড়ে।
প্রাচীন সংস্কৃতিতেও ঘরের সুবাস ও পরিচ্ছন্নতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। রোমানদের স্যাটারনালিয়া উৎসবে কমলার খোসা ও দারুচিনি পোড়ানোর প্রচলন ছিল। তখন কমলা ছিল সমৃদ্ধির প্রতীক, আর এর সুগন্ধ দ্রুত দুর্গন্ধ ঢেকে দিত। শীতের দিনে ঘরের পরিবেশ উষ্ণ ও স্বস্তিদায়ক রাখতে এই প্রাচীন পদ্ধতি আজও অনুসরণ করা যেতে পারে। একটি পাত্রে অর্ধেক পানি নিয়ে তাতে পাতলা করে কাটা কমলা বা লেবু এবং দুই টুকরো দারুচিনি দিয়ে মাঝারি আঁচে প্রায় ২০ মিনিট ফুটিয়ে নেওয়া যায়। শেষে কয়েক ফোঁটা ভ্যানিলা তেল মিশিয়ে দিলে ঘরের বাতাসে ছড়িয়ে পড়বে মোলায়েম ও উষ্ণ সুগন্ধ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দারুচিনি ও কমলার তেলের অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য বাতাসে থাকা দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু কমাতে সহায়তা করে। এই সুবাস ঘরের পর্দা, বিছানা ও পরিবেশে মিশে এক ধরনের প্রশান্তি এনে দেয়। এ ছাড়া ভ্যানিলা, ক্যারামেল ও মধুর মিশ্রণে তৈরি মিষ্টি ও মসলাযুক্ত সুগন্ধিও শীতকালে বেশ জনপ্রিয়। এসব প্রাকৃতিক সুবাস শুধু উষ্ণতা নয়, মানসিক স্বস্তিও এনে দেয় বলে মনে করা হয়।
সিএ/এসএ


