রাজধানী ঢাকার কাছাকাছি এমন কিছু মনোরম জায়গা রয়েছে, যেখানে একদিনের ছোট ভ্রমণে প্রকৃতি, ইতিহাস ও প্রশান্তির ছোঁয়া মিলবে। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য সেরা এই চারটি গন্তব্যের তথ্য নিম্নরূপ—
১. পানাম নগর, নারায়ণগঞ্জ
ঢাকার পাশে সোনারগাঁওয়ে অবস্থিত পানাম নগর প্রায় ২০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত। এটি বিশ্বের ১০০টি ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের একটি। কয়েক শতাব্দী পুরনো ভবনগুলো বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। পানাম নগরের কাছেই আছে সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর এবং মেঘনা নদী। নদীর ওপারে বিস্তৃত কাশফুলে ঢাকা মাঠ ঘুরে দেখার সুযোগ আছে।
যোগাযোগ: ঢাকার গুলিস্তান থেকে দোয়েল, স্বদেশ বা বোরাকের এসি বাসে মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা নামতে হবে। সেখান থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা করে পানাম নগর পৌঁছানো যায়।
২. নুহাশ পল্লী, গাজীপুর
বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের নিজ হাতে নির্মিত এই পল্লী বাগান বাড়ি দর্শনীয়। এখানে আছে বৃষ্টি বিলাস, ভুত বিলাস নামের বাড়ি, ট্রি হাউজ, বিভিন্ন ভাস্কর্য ও প্রায় ৩০০ প্রজাতির গাছের বাগান। পদ্ম পুকুর ও মৎস্য কন্যা, প্রাগৈতিহাসিক প্রাণীর অনুকীর্তি দেখতেও পারবেন।
যোগাযোগ: ঢাকা থেকে বাসে গাজীপুরের হোতাপাড়া নামক বাস স্ট্যান্ডে নেমে, রিকশা বা সিএনজিতে নুহাশ পল্লী সহজেই পৌঁছানো যায়।
৩. মৈনট ঘাট, দোহার
ঢাকার কাছের দোহার উপজেলায় অবস্থিত মৈনট ঘাটকে ‘মিনি কক্সবাজার’ বলা হয়। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য, পদ্মার ইলিশ এবং নৌকাভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করা যায়। সাগরের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘাট দিনে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘুরে আসার জন্য উপযুক্ত।
যোগাযোগ: গুলিস্তান গোলাপ শাহ মাজারের সামনে থেকে বাসে সরাসরি মৈনট ঘাটে যাওয়া যায়।
৪. জিন্দা পার্ক, নারায়ণগঞ্জ
ঢাকা থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে রূপগঞ্জের জিন্দা পার্কে কম খরচে প্রকৃতির মাঝে সময় কাটানো যায়। পার্কটিতে রয়েছে ২৫০ প্রজাতির দশ হাজারের বেশি গাছ, ৫টি জলাধার, চিড়িয়াখানা, নৌবহর, ক্যান্টিন ও লাইব্রেরি। রেস্টুরেন্ট ও গেস্টহাউস থাকার সুবিধাও রয়েছে।
যোগাযোগ: ঢাকার যেকোনো জায়গা থেকে কুড়িল বিশ্বরোডে এসে ৩০০ ফিট রাস্তার প্রান্ত থেকে লোকাল সিএনজি বা লেগুনা দিয়ে কাঞ্চন ব্রিজ হয়ে অটোরিকশায় পৌঁছানো যায়।
সিএ/এসএ


