মহাকাশ সব সময়ই মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু। সেখানে গিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন কিছু আবিষ্কার করছেন যা পৃথিবীর জীবনকে আরও উন্নত করতে সাহায্য করছে। সম্প্রতি চীনের শেনচৌ-২১ মিশন এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রায় দুই মাসের মিশন অতিক্রম করে চীনের থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে বহুমাত্রিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করছেন শেনচৌ-২১ মিশনের নভোচারীরা।
শেনচৌ-২১ মিশন ও নভোচারীরা
গত ১ নভেম্বর শেনচৌ-২১ মানববাহী মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। ছয় মাসব্যাপী এই অভিযানে তিনজন নভোচারীকে থিয়ানকং মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো হয়। তারা হলেন—মিশন কমান্ডার চাং লু, ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার উ ফেই এবং পেলোড বিশেষজ্ঞ চাং হোংচাং। তাঁরা যথাক্রমে স্পেস পাইলট, ইঞ্জিনিয়ার ও বিজ্ঞানী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও গবেষণা
নভোচারীরা মহাকাশে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাচ্ছেন। মস্তিষ্কের কার্যক্রম পরিমাপের জন্য ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রাম (ইইজি) ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দলগত মনোভাব ও আবেগ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওয়েনতিয়ান ল্যাব মডিউলে গ্লাভ বক্সে আরাবিডপসিস থ্যালিয়ানা উদ্ভিদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই উদ্ভিদগুলো স্টেম সেলের মলিকুলার নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাইক্রোগ্র্যাভিটিতে তরল পদার্থের পরীক্ষা ফ্লুইড ফিজিক্স এক্সপেরিমেন্টাল ক্যাবিনেটে চালানো হচ্ছে। এছাড়া কম্বাশন পরীক্ষার জন্য প্লাগ-ইন গ্যাস পরীক্ষা, কনটেইনারলেস ক্যাবিনেটে নমুনা পরিষ্কারকরণ এবং অ্যাক্সিয়াল মেকানিজমের ইলেক্ট্রোড রক্ষণাবেক্ষণও চলছে।
পেলোড বিশেষজ্ঞ চাং হোংচাং লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির গবেষণায় নিয়োজিত আছেন। তিনি লিথিয়াম ডেনড্রাইট বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার চিত্র সংগ্রহ করছেন, যা ভবিষ্যতে শক্তিশালী ও নিরাপদ ব্যাটারি তৈরিতে সহায়ক হবে।
দৈনন্দিন জীবন ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ
নভোচারীরা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও দৈনন্দিন কাজও সম্পন্ন করছেন। হাড়ের ঘনত্ব, রক্তচাপ, ইসিজি ও দৃষ্টিশক্তি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া তারা একে অপরকে সহায়তা করছেন এবং মহাকাশে নিরাপদ জীবনযাপন করছেন। ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনে তিন চীনা নভোচারী মহাকাশ থেকে পৃথিবীর সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সিএ/এসএ


